Public transport এর দিক থেকে কিন্তু কলকাতার কোনো তুলনা হয় না। গাড়ি, স্কুটার, মোটরসাইকেল - এগুলি চালাতে জানা বাধ্যতামূলক নয়। Infact আমার পরিচিতির মধ্যে অনেকেই শুধু সাইকেল চালানো রপ্ত করেই জীবন যুদ্ধে জয় ঘোষণা করেছে। এঁরা বুঝে গেছে - এটাই যথেষ্ট।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পা রাখতেই যে রিক্সা পাওয়া যায়। মানব শক্তি চালিত এই যান এর উদয় হয় ১৯০০ সালে কলকাতায়। চিনে ব্যবসায়ী দেড় কৃতিত্বে। সর্গ, নরক আর কলকাতা পুলিশ কে এড়িয়ে , পাড়ার গলি, চায়ের দোকান , বাস স্ট্যান্ড, এমনকি বাড়ির উঠোনে - এদের সীমাহীন গতিবিধি। বাইরের গঠন দেখে সেকেলে মনে হলেও, রিকশা কিন্তু far ahead of its time । Surge Pricing এর কনসেপ্ট টা এখান থেকেই তো এসেছে। বৃষ্টি হলে দু গুন ভাড়া, বাজারের থলি থাকলে ২ টাকা বেশি, বড়ো রাস্তা পার হলে ১ টাকা বেশি আর রাত ৯ টার পর কাকুতি-মিনতি। Uber অনেক পিছিয়ে আছে। মধ্যবিত্ত কলকাতার লাইফ লাইন এরা।
রিকশায় চেপে অবশ্য বেশি দূর যাওয়া যায় না। ওই পাড়ার গলি থেকে বড়ো রাস্তা। তার ধীর গতি লম্বা সফরের জন্য উপযুক্ত নয়।
বড়ো রাস্তায় পৌঁছে বোঝা যায় কেন বাঙালি রা নিজেদের Public transport সিস্টেম নিয়ে এতো গর্বিত।বাস, ট্যাক্সি , মেট্রো, ট্রাম, অটো - শারীরিক ক্ষমতা এবং সময় এর দাম, এই দুটো factor এর ওপর বেছে নিন নিজের বাহন। তবে কটা জিনিস জেনে নেওয়া দরকার, যাত্রা শুরুর আগে।
বাস: কলকাতায় বাস মুলত তিন রকমের - টিনের বাস, মিনি বাস, সরকারি বাস।
প্রথমেই মিটিয়ে নি সরকারি বাস এর ব্যাপারটা। খুব সহজ - এগুলো রাস্তায় দেখা যায় না। মেরামতির অভাব আর দুর্নীতির উপস্থিতি - এই দুই কারণে সরকারি বাস এখন লুপ্তপ্রায়। হাতে গোনা যেকটি রাস্তায় দেখা যায়, সেগুলো খুব সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন সংস্থার কর্মচারীদের work shuttle রূপে ব্যবহার হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নেই।
টিনের বাস: কাঠের কাঠামোর ওপর টিনের পাত বসিয়ে এই বাস তৈরী। তাই টিনের বাস। ভিতরে বসার স্থান ৩৫। এটাই একমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যা । বাস্তবে এই বাসে কতজন ধরে, এই তথ্য আজও সঠিক ভাবে জানা যায় নি। Considered a State Secret। তবে এটা ঠিক - যতই ভিড় হোক না কেন, টিনের বাস কাউকে ফেরায় না। ছাদে, দরজায়, জানলায় বাদুড় ঝোলার মতন করে মানুষ হাওয়া খেতে খেতে দিব্বি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পারি দিচ্ছে। দেখে যতটা অস্বস্তিকর মনে হয়, আসলে ততটা নয়। অন্তত যারা বাস এর ভিতরে, তাদের তুলনায় অনেকটাই কম। ভারত বর্ষের Population density আর High Contact culture এর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় বাসের ভিতরে। বিশদ বর্ণনার প্রয়োজন নেই। ঘামের গন্ধ মাখা কিছু লোমহর্ষক স্মৃতি মাথা চারা দিয়ে উঠবে। জানতে হলে সোমবার সকাল ৯ টায়, ২১৮ নং বাস এ চেপে বাবুঘাট চলে যাবেন। বাঙালি বাস যাত্রীদের প্রতি এক উঁচু মানের শ্রদ্ধা অনুভব করবেন। ও হ্যা আরেকটা কথা - তারা থাকলে টিনের বাসে না চাপায় ভালো। বাস স্ট্যান্ড, স্কুল কলেজ এর গেট, সিনেমা হল, মিষ্টির দোকান, মাছের বাজার - সম্ভাব্য যাত্রী দেখলেই বাস যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। এই চলা থামার নাটকে ব্যস্ততার কোনো জায়গা নেই। ধৈর্য ধরে বসুন - কোনো এক সময় ঠিক পৌঁছে যাবেন।
এই টিনের বাসের ছোট সংস্করণ হলো মিনিবাস। আয়তন এর অপূর্ণতা সে গতি আর আক্রমণাত্মক ব্যবহার দিয়ে পূর্ণ করে নেয়। মিনিবাস চালক দেড় concept of speed, space and time অন্য মানুষেদের থেকে একটু আলাদা। সেটা মিনিবাস এর যাত্রী বুঝতে না পারলেও, রাস্তার দুর্ভাগ্য পথচারি খুব ভালো করে টের পায়। অতয়েব, রাস্তায় মিনিবাস দেখলেই টুক করে উঠে পড়ুন। বাইরে থাকা নিরাপদ নয়।
মিনিবাস এর aggression এর ঠিক উল্টো হলো ট্রাম। সরকারি বাস এর মতন ট্রাম ও প্রায় লুপ্ত। কিন্তু এটার জন্য সরকার কে দোষ দেওয়া ঠিক যায়না। দোষ তা শ্রী চার্লস ডারউইন এর। উনি দুম করে বলে দিলেন "Survival of the fittest" - আর ব্যাস, ট্রাম এর দিন শেষ। ট্রাম এর ধীর গতি এবং সীমিত route এর জন্য আজ আর তাকে reliable transportation ভাবে গ্রহণ করা যায় না। আজ একবিংশ শতাব্দী তে ট্রামের ভূমিকা দুটো: প্রথমত ময়দান এ প্রেমিক - প্রেমিকাদের নির্বিঘ্নে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া আর দ্বিতীয়ত সিনেমা শুটিং এর প্রপ হওয়া। এক অতি সাধারণ Public Transport থেকে ট্রাম এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি র এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে।
ট্রামের আরাম আর মিনিবাস এর গতি - দুই চাই ? তাহলে ট্যাক্সি ছাড়া উপায় নেই। ট্যাক্সি হলো আজকের দিনের সত্যিকারের শ্রেণী শত্রূ। বোঝাচ্ছি। মদ্ধবিত্ত বাঙালি ট্যাক্সি চড়ে বছরে ২ বার। বাৎসরিক পুরী ব্রাহ্মণের সময় হাওড়া স্টেশন যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরা। অথচ প্রয়োজনের সময় রাস্তায় খালি ট্যাক্সি পাওয়া অসম্ভব। সবসময় সোয়ারি নিয়ে সে চলেছে কোথাও। এরা শহরের উচ্চবিত্ত। ভিড় বাস এ দাঁড়ানো মধ্যবিত্ত বাঙালির মনে আঘাত করবে না ? সে জবাব চায় - সেও রোজ ট্যাক্সি চড়তে চায়। তাই আপনি যদি শ্রেণী সচেতন বুদ্ধিজীবী বাঙালি হন, তাহলে ট্যাক্সি বস্তু টি কে এড়িয়ে চলাই ভালো।
রয়ে গেলো খালি অটো - কিন্তু তা নিয়ে আমি বিশেষ বলতে পারবো না। অটো ইউনিয়ন এর সদস্য রা আমাকে মিষ্টি করে অনুরোধ করেছে তাঁদের নিয়ে না লিখতে । তাঁদের কথা আমি ফেলতে পারবো না। তবে একটা কথা বলি - বর্তমান কাগজ আর অটো চালক - এরা ভগবান ছাড়া কাউকে ভয় পায়না। বাকিটা আপনি বুঝে নিন।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পা রাখতেই যে রিক্সা পাওয়া যায়। মানব শক্তি চালিত এই যান এর উদয় হয় ১৯০০ সালে কলকাতায়। চিনে ব্যবসায়ী দেড় কৃতিত্বে। সর্গ, নরক আর কলকাতা পুলিশ কে এড়িয়ে , পাড়ার গলি, চায়ের দোকান , বাস স্ট্যান্ড, এমনকি বাড়ির উঠোনে - এদের সীমাহীন গতিবিধি। বাইরের গঠন দেখে সেকেলে মনে হলেও, রিকশা কিন্তু far ahead of its time । Surge Pricing এর কনসেপ্ট টা এখান থেকেই তো এসেছে। বৃষ্টি হলে দু গুন ভাড়া, বাজারের থলি থাকলে ২ টাকা বেশি, বড়ো রাস্তা পার হলে ১ টাকা বেশি আর রাত ৯ টার পর কাকুতি-মিনতি। Uber অনেক পিছিয়ে আছে। মধ্যবিত্ত কলকাতার লাইফ লাইন এরা।
রিকশায় চেপে অবশ্য বেশি দূর যাওয়া যায় না। ওই পাড়ার গলি থেকে বড়ো রাস্তা। তার ধীর গতি লম্বা সফরের জন্য উপযুক্ত নয়।
বড়ো রাস্তায় পৌঁছে বোঝা যায় কেন বাঙালি রা নিজেদের Public transport সিস্টেম নিয়ে এতো গর্বিত।বাস, ট্যাক্সি , মেট্রো, ট্রাম, অটো - শারীরিক ক্ষমতা এবং সময় এর দাম, এই দুটো factor এর ওপর বেছে নিন নিজের বাহন। তবে কটা জিনিস জেনে নেওয়া দরকার, যাত্রা শুরুর আগে।
বাস: কলকাতায় বাস মুলত তিন রকমের - টিনের বাস, মিনি বাস, সরকারি বাস।
প্রথমেই মিটিয়ে নি সরকারি বাস এর ব্যাপারটা। খুব সহজ - এগুলো রাস্তায় দেখা যায় না। মেরামতির অভাব আর দুর্নীতির উপস্থিতি - এই দুই কারণে সরকারি বাস এখন লুপ্তপ্রায়। হাতে গোনা যেকটি রাস্তায় দেখা যায়, সেগুলো খুব সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন সংস্থার কর্মচারীদের work shuttle রূপে ব্যবহার হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নেই।
টিনের বাস: কাঠের কাঠামোর ওপর টিনের পাত বসিয়ে এই বাস তৈরী। তাই টিনের বাস। ভিতরে বসার স্থান ৩৫। এটাই একমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যা । বাস্তবে এই বাসে কতজন ধরে, এই তথ্য আজও সঠিক ভাবে জানা যায় নি। Considered a State Secret। তবে এটা ঠিক - যতই ভিড় হোক না কেন, টিনের বাস কাউকে ফেরায় না। ছাদে, দরজায়, জানলায় বাদুড় ঝোলার মতন করে মানুষ হাওয়া খেতে খেতে দিব্বি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পারি দিচ্ছে। দেখে যতটা অস্বস্তিকর মনে হয়, আসলে ততটা নয়। অন্তত যারা বাস এর ভিতরে, তাদের তুলনায় অনেকটাই কম। ভারত বর্ষের Population density আর High Contact culture এর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় বাসের ভিতরে। বিশদ বর্ণনার প্রয়োজন নেই। ঘামের গন্ধ মাখা কিছু লোমহর্ষক স্মৃতি মাথা চারা দিয়ে উঠবে। জানতে হলে সোমবার সকাল ৯ টায়, ২১৮ নং বাস এ চেপে বাবুঘাট চলে যাবেন। বাঙালি বাস যাত্রীদের প্রতি এক উঁচু মানের শ্রদ্ধা অনুভব করবেন। ও হ্যা আরেকটা কথা - তারা থাকলে টিনের বাসে না চাপায় ভালো। বাস স্ট্যান্ড, স্কুল কলেজ এর গেট, সিনেমা হল, মিষ্টির দোকান, মাছের বাজার - সম্ভাব্য যাত্রী দেখলেই বাস যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। এই চলা থামার নাটকে ব্যস্ততার কোনো জায়গা নেই। ধৈর্য ধরে বসুন - কোনো এক সময় ঠিক পৌঁছে যাবেন।
এই টিনের বাসের ছোট সংস্করণ হলো মিনিবাস। আয়তন এর অপূর্ণতা সে গতি আর আক্রমণাত্মক ব্যবহার দিয়ে পূর্ণ করে নেয়। মিনিবাস চালক দেড় concept of speed, space and time অন্য মানুষেদের থেকে একটু আলাদা। সেটা মিনিবাস এর যাত্রী বুঝতে না পারলেও, রাস্তার দুর্ভাগ্য পথচারি খুব ভালো করে টের পায়। অতয়েব, রাস্তায় মিনিবাস দেখলেই টুক করে উঠে পড়ুন। বাইরে থাকা নিরাপদ নয়।
মিনিবাস এর aggression এর ঠিক উল্টো হলো ট্রাম। সরকারি বাস এর মতন ট্রাম ও প্রায় লুপ্ত। কিন্তু এটার জন্য সরকার কে দোষ দেওয়া ঠিক যায়না। দোষ তা শ্রী চার্লস ডারউইন এর। উনি দুম করে বলে দিলেন "Survival of the fittest" - আর ব্যাস, ট্রাম এর দিন শেষ। ট্রাম এর ধীর গতি এবং সীমিত route এর জন্য আজ আর তাকে reliable transportation ভাবে গ্রহণ করা যায় না। আজ একবিংশ শতাব্দী তে ট্রামের ভূমিকা দুটো: প্রথমত ময়দান এ প্রেমিক - প্রেমিকাদের নির্বিঘ্নে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া আর দ্বিতীয়ত সিনেমা শুটিং এর প্রপ হওয়া। এক অতি সাধারণ Public Transport থেকে ট্রাম এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি র এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে।
ট্রামের আরাম আর মিনিবাস এর গতি - দুই চাই ? তাহলে ট্যাক্সি ছাড়া উপায় নেই। ট্যাক্সি হলো আজকের দিনের সত্যিকারের শ্রেণী শত্রূ। বোঝাচ্ছি। মদ্ধবিত্ত বাঙালি ট্যাক্সি চড়ে বছরে ২ বার। বাৎসরিক পুরী ব্রাহ্মণের সময় হাওড়া স্টেশন যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরা। অথচ প্রয়োজনের সময় রাস্তায় খালি ট্যাক্সি পাওয়া অসম্ভব। সবসময় সোয়ারি নিয়ে সে চলেছে কোথাও। এরা শহরের উচ্চবিত্ত। ভিড় বাস এ দাঁড়ানো মধ্যবিত্ত বাঙালির মনে আঘাত করবে না ? সে জবাব চায় - সেও রোজ ট্যাক্সি চড়তে চায়। তাই আপনি যদি শ্রেণী সচেতন বুদ্ধিজীবী বাঙালি হন, তাহলে ট্যাক্সি বস্তু টি কে এড়িয়ে চলাই ভালো।
রয়ে গেলো খালি অটো - কিন্তু তা নিয়ে আমি বিশেষ বলতে পারবো না। অটো ইউনিয়ন এর সদস্য রা আমাকে মিষ্টি করে অনুরোধ করেছে তাঁদের নিয়ে না লিখতে । তাঁদের কথা আমি ফেলতে পারবো না। তবে একটা কথা বলি - বর্তমান কাগজ আর অটো চালক - এরা ভগবান ছাড়া কাউকে ভয় পায়না। বাকিটা আপনি বুঝে নিন।