সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিভা আমার খুবই শিথিল। তাই জ্ঞানত ওইদিকে বিশেষ পা মাড়াই না। কিন্তু কিছু ফন্দিবাজ মহিলার পাল্লায় পরে ইদানিং নিজের ঊষর মস্তিষ্কে সার জল দিতে বাধ্য হয়েছি। আমার মা, আমার ছোটদিদা, আমার স্ত্রী এবং সবার প্রিয় শুভা দি - এই চার কন্যা মিলে আমাকে ভালোই কোনঠাসা করে ফেলেছে। অগত্যা মনের ভিতর থেকে কুড়িতে কাচিয়ে মাঝে মধ্যে একটা দুটো আজগুবি প্রবন্ধর জন্ম দি। আর তাতেই হলো বিপদ। বাজারে গুজব ছড়িয়ে গেলো আমি নাকি এক উঠতি প্রতিভাশালী লেখক । সাহিত্য রচনার সময় আমি কোষ্টকাঠিন্যের রুগীদের প্রতি সহানুভূতি বোধ করি। এই কথা জনগণকে জানিয়ে দিতে চাই। কিন্তু আজকের সমস্যা সাহিত্য রচনা নিয়ে নয় - সাহিত্য রচনার spillover effect নিয়ে। বছরে দু-তিনবার আমাদের "লেখা-পরা" literary group এর জন্য কিছু লিখতে হয়। সে আমি মোটামুটি ব্যবস্থা করে ফেলেছিলাম। কিন্তু বিপদ হলো যখন জনতা আমাকে "উঠতি" লেখক থেকে "Established artist" এ promote করে দিলো। লিখতে যখন পারি তখন নাচ, গান, বাজনা, নাটক এইগুলোতেও নিশ্চয় আমি পারদর্শী। যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে - এই প্রবাদ এখানে খাঁটে না। সে কথা আর কি করে বোঝাই। একেই বলে "spillover effect".
নিশ্চিন্ত মনে পুজো বার্ষিকী পত্রিকার কাজ করছি। মানে অন্যের লেখা copy paste করছি। এর মাঝে শ্রীপর্ণা দির phone এলো। শ্রীপর্ণা দি আমাদের cultural কমিটির সদস্য। "এই ঋত্বিক, তুমি পুজোয় নাটক করবে ?" শ্রীপর্ণা দি জিগেশ করলো। আমি আর নাটক ? জীবনে শেষ বার অভিনয় করেছিলাম উচ্চ মাধ্যমিক এর chemistry পরীক্ষার আগে। পেট ব্যাথায় কাতর রোগীর অভিনয়। সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকলে গর্ব বোধ করতেন। কিন্তু এই কালজয়ী অভিনয়ে কোনো হাততালি পরে নি। পরেছিলো খালি এক জব্বর কানমলা । আমাদের দেশে Method actor এর কোনো কদর নাই। তাই শ্রীপর্ণা দি কে বলে দিলাম আমার দ্বারা হবে না। তুমি অন্য লোক খুঁজে নাও। কিন্তু শ্রীপর্ণা দি খুবই চালাক । মোক্ষম অস্ত্র টি লুকিয়ে রেখেছিলো। "তোমার সাথে জয়ীতাও করবে। ওর সাথে কথা হয়ে গেছে ". ব্যাস শক্তিশেল। জয়ীতা আমার স্ত্রী। আর তিনি যখন সম্মতি দিয়েছেন, তখন আমার মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি একটু মিউ মিউ করে বলার চেষ্টা করলাম যে পুজো পত্রিকার এতো কাজ, rehearsal এর সময় কিভাবে দেব। তাতে শ্রীপর্ণা দি assurance দিলো যে একটা দুটো rehearsal দিলেই আমাদের হয়ে যাবে। ছোট পাঠ। অগত্যা রাজি হলাম। পরের রবিবার rehearsal . ফন্দিবাজ মহিলার তালিকায় শ্রীপর্ণা দির নাম যোগ হলো। তাঁরা আবার আমায় বাজি মাত করেছে।
Rehearsal শুরু হলো। প্রথম দিন গিয়েই বুঝলাম ফাঁকি মারার কোনো জায়গা নেই। এই নাটক হলো যাকে বলে multi starrer . Austin এর নাটক scene এর এক এক তারকারা পাঠ করছে। তার ওপর স্নিগ্ধ দির মতন তাবড় পরিচালক। আমার তো শিরে সংক্রান্তি। নিজেকে বোঝালাম - ঘাবড়াবার কিছু নেই। আমি এর আগেও নাটক করেছি। class ৮ এ পাড়ার নাটকে এ গাছের role করেছিলাম। একথা শুনে যারা আড়ালে মুখ টিপে হাসছেন তাদের জানা উচিত যে গাছের পাঠ করা চাট্টিখানি কথা নয়। খালি costume পরে চুপ চাপ স্টেজের কোনায় দাঁড়িয়ে থাকলে হবে ? একদমই না। মশার কামড় খেয়ে, বাথরুম চেপে, বিনা প্রতিবাদে মৃদু তালে পাতা-ডালপালা নাড়িয়ে যেতে হয়। যতই নাক কান চুলকাক না কেন - মাটি আর দাঁত কামড়ে স্টেজ আলো করে থাকতে হয়। এক্কেবারে বটগাছ। এ এক শিল্প। একদম "Natural" Acting .
যাই হোক। এই ভাবে confidence এর থলিটা ঠেসে ঠুসে ভরে নিয়ে আমি rehearsal এ নেমে পড়লাম। বাদল সরকারের হাসির নাটক নাটক। নাম বিচিত্রানুষ্ঠান। সপ্তাহে দুদিন করে rehearsal । তবে rehearsal এর চেয়ে খাওয়া দাওয়া টাই বেশি আকর্ষণীয় ছিল আমার কাছে। প্রথম দিকে snacks দিয়ে শুরু হয়েছিল, তারপর ধীরে ধীরে মাংস ভাত, Chinese, বিরিয়ানি ইত্যাদি তে পদোন্নতি হয়েছিল। শেষে এমন অবস্থা, যে নাটকের costume এর থেকে পরের rehearsal এর menu নিয়ে লোকের বেশি আগ্রহ। নেহাত স্নিগ্ধা দি বাঁধ সাধলো। নয়তো আর একটু হলেই নাট্য রস, খাদ্য রসিকতায় পরিণত হয়ে যেত।
দেখতে দেখতে দু -মাস কেটে গেলো। প্রচুর Rehearsal এর পর অবশেষে মনে একটু বল পেয়েছি। আমার পাঠ খুব বড়ো নয়, ওই ৪-৫ লাইন খালি। কিন্তু তাও আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই নি। সুযোগ পেলেই অনুশীলন করে নিয়েছি। ঘরে, বাইরে, অফিস এর ফাঁকে, নির্জন parking lot এ, এমনকি HEB এর checkout লাইন এ - যেখানে সুযোগ পেয়েছি, লাইন গুলো একটু করে আউড়ে নিয়েছি। Unsuspecting জনতার বিভ্রান্তির জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু মহান অভিনেতারা সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরী থাকে। যুগান্তকারী অভিনয় এমনি এমনি হয় না। মনে বেশ আত্মবিশ্বাসের একটা ফুফুরে ভাব। এ যাত্রা ফাঁড়াটা বোধয় কেটে যাবে। এই কথা শুনে, আমার ভাগ্য, হাত-পা ছড়িয়ে, পেটে খিল দিয়ে, হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছিলো ।
নাটকের দিন সকাল থেকেই গন্ডগোল শুরু। Central Texas Bengali Association এর বাজেট কম থাকায় আমাদের ড্রেস রিহার্সাল করার সুযোগ হয় নি। তাই সকাল থেকে সবাই whatsapp এ নিজেদের costume ও mak-up এর ডিটেল share করছিলো। এখানেই হলো প্রথম বিপদ। দেখি সবাই নিজের নিজের পরচুলা পরা ছবি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমার তো পরচুলা নেই। আমায় তো কেউ বলে নি পরচুলার কথা। পরে জানতে পেরেছিলাম নাটকে পরচুলা টা নাকি standard requirement. Character কে গুরুত্ব দেয় । আমার মতন অ্যামেচার সে কথা জানতো না। কিন্তু এখন আর ভেবে লাভ নেই। এই short notice এ পরচুলা জোগাড় করা যাবে না । অথচ বাকিদের থেকে আমারি পরচুলার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ব্যাপারটা হচ্ছে যে আমার dual role. মানে আমি দুটো চরিত্র অভিনয় করছি। এক হলো light technician চুনি বাবু আর অন্য টি হলো এক intellectual দর্শক। এদের চেহারা আলাদা, ব্যক্তিত্ব আলাদা, আদব - কায়দা সবই আলাদা। বহু অনুশীলন করে এই দুই চরিত্রের ব্যক্তিত্ব আর আদব -কায়দার ভিন্নতা আমি তুলে ধরতে শিখেছি। কিন্তু চেহারার অমিলের ব্যাপারটা আমি বেমালুম ভুলে গেছি । মনে থাকলে, একটা পরচুলা বা নকল দাড়ি নিশ্চয় জোগাড় করে রাখতাম। এক চরিত্র দাড়িওয়ালা , অন্য জনের মাথায় ঝাঁকড়া চুল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে light technician চুনি বাবু আর intellectual দর্শক আসলে একই লোক কিন্তু ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। হাসির নাটক পরিণত হয়েছে hollywood thriller এ। ঠিক করলাম অন্য রকমের জামাকাপড় পরে ব্যাপারটা ম্যানেজ দেবার চেষ্টা করবো। একেই বোধয় বলে স্টেজএ মেরে দেওয়া। কিন্তু আমার পোড়া কপালে তাও জুটলো না ।
সাড়ে দশটায় Performing Arts Center এ পৌছালাম। এখানেই এক প্রকান্ড auditorium এর স্টেজ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আমাদের নাটক lunch এর পর । হাথে সময় আছে আর একবার একটা মিনি rehearsal দেওয়ার। Auditorium এর দরজার সামনে অনির্বান দা দাঁড়িয়ে আছে। অনির্বান দা আমাদের association এর president আর আমাদের নাটকের এক প্রধান চরিত্রে অভিনয় ও করছে। "অনির্বান দা, সব ready ? বাকিরা কি ?" - আমি জিজ্ঞেস করলাম। অনির্বান দা আমার দিকে না তাকিয়ে, ভাঙা গলায় বললো "Hall হলো না" . "মানে ? Hall এর কি holo না ?" এবার একটু বিরক্ত হয়েই অনির্বান দা বললো "উফঃ , hall পাওয়া যাবে না। আমাদের নাটক Brushy Creek পার্ক এ হবে। সবাই সেখানেই যাচ্ছে। ". আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। আমি তাবড় অভিনেতা নই ঠিকই , কিন্তু আমার কিছু basic standard আছে। কোথায় গিয়ে এখন মাঠে ঘটে অভিনয় করতে হবে ? এটা একটা উৎকৃষ্ট মানের নাটক - পাড়ার যাত্রা নয়। বিরক্তি আর হতাশা নিয়ে আমি Brushy Creek পার্ক এর দিকে রওনা হলাম।
পার্ক এ পৌঁছে দেখি নাটকের দলের সবাই সেখানে উপস্থিত। পরিচালক স্নিগ্ধা দির পরিচালনায় সায়ন দা বাঁশ আর কাঠের তক্তা দিয়ে স্টেজএর কাঠামো বানাচ্ছে। সর্মিতা দি আর শ্রীপর্ণা দি আগাছা সরিয়ে স্টেজের মাঝখান টা পরিষ্কার করছে। জয়ন্ত দা আর সুব্রত দা দর্শকের চেয়ার পাতছে । সৌমেন দা prop arrange করছে। আর দীপন দা তাকে তদারকি করছে । সবাই কে একসাথে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখে মনে বল এলো। Broadway লাগবে না - এই ফাঁকা ময়দান এই আমরা কালজয়ী অভিনয় করে দেখিয়ে দেব।
সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের makeshift স্টেজ তৈরী। দর্শকের চেয়ার মোটামুটি সবই ভর্তি - housefull বলা যেতে পারে । আমার পাঠ সেই একদম শেষ দৃশ্যে। তাই ঠিক করলাম প্রথম দুটো দৃশ্য দর্শকের মাঝখানে বসেই দেখবো। বেশ একটা audience perspective পাওয়া যাবে । দর্শকের মাঝে নাটক দেখতে বেশ মজাই লাগছিলো। এতবার rehearsal করেও যেন পুরোনো হয় না। এতটাই মশগুল হয়ে গেছি যে খেয়ালি করি নি কখন শেষ দৃশ্য শুরু হয়ে গেছে। হঠাৎ টনক নড়লো। এই জাহ - আমার part টা কি miss হয়ে গেলো ? পাশের লোক কে জিজ্ঞেস করলাম - "আচ্ছা দাদা, এই চুনি বাবু কি এসেছিলেন ?" ভদ্রলোক ভুরু কুঁচকে একটু ভেবে জিজ্ঞেস করলেন "চুনি বাবু, চুনি বাবু, ও বেনারস এর চুনি বাবু ?". "আরে ধুর মশাই, light technician চুনি বাবু" - আমি বিরক্ত হয়ে বললাম। বুঝলাম চুনি বাবুর ডাক বোধয় এখনো পরে নি। তড়িঘড়ি করে দর্শকের মাঝখান থেকে বেরিয়ে স্টেজের পিছনে গিয়ে উপস্থিত হলাম। যেকোনো সময় এবার আমার ডাক পর্বে।
চুনি বাবুর কথোপকথন সুধীন বাবু চরিত্রের সাথে। সুধীন বাবুর ভূমিকায় দীপন দা। দীপন দা খুব বড়ো মাপের অভিনেতা আর তার থেকেও বড়ো মাপের খাদ্যরসিক। আশাকরি পেট ভরে lunch করে এসেছে। Cue পেয়ে আমি স্টেজ এ ঢুকে পড়েছি। বহু অনুশীলন করা opening লাইন তা এক্কেবারে বচ্চনের মতন করে deliver করলাম। হাততালি আশা করি নি কিন্তু এইরম নিস্তব্ধতাও আশা করি নি। পাশে তাকিয়ে দেখি পরের লাইন বলার জন্য সুধীন বাবু ওরফে দীপন দা স্টেজ এ অনুপস্থিত। পরিস্থিত তা এইরম দাঁড়িয়েছে, চুনি বাবু স্টেজ এ উঠে সুধীন বাবুর অনুপুস্থিতে, ওনাকেই উদ্দেশ্য করে এক মোক্ষম সংলাপ ঝেড়েছে । এবার পরের ডায়ালগ pickup করার লোক নেই। কিন্তু দীপন দা গেলো কই ? এইদিকে জনতা বিভ্রান্ত। তারা কিছুই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। কিন্তু আমার হলো আরো বড় বিপদ। The show must go on - অতয়েব স্নিগ্ধা দি আড়াল থেকে তাগাদা দিলো - "Dialogue বোলো" . আচ্ছা মুশকিল - আমার ডায়ালগ তো হয়ে গেছে ? কার ডায়ালগ বলবো ? ঐদিকে এইবার জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। মাঝ দৃশ্যে নাটক আটকে গেছে। তাদের ধৈর্যের সীমার হারিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ ঠাস করে গালে সজোরে কি একটা লাগলো। নিচে তাকিয়ে দেখি একখান খাস্তা কচুরি। খাস্তা কচুরি খুব ভালো জিনিস যতক্ষণ না আপনার নাটকের দর্শক সেটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে । আক্রমণ টা শুধু খাস্তা কচুরিতেই আটকে থাকে নি। সিঙ্গারা, আলুর চপ, রস টেপা রসগোল্লা - হাতের কাছে যা পাওয়া গেছে জনতা তার সদ্ব্যবহার করেছে। আর এই হিংস্র জনতার ভিড়েই চোখে পড়লো দীপন দা। সিঙ্গারার ঝুড়ি কোলে নিয়ে বসে আছে । নিজে তো খাচ্ছেই আবার দর্শকদের অস্ত্র হিসাবে সাপ্লাই করছে। Association এ র ফুড কমিটিতে feedback দিতে হবে । নাটক চলাকালীন যেন খাবার বিতরণ না করা হয় । আমরা হিংস্রতা আর বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে ।
গোলমাল যখন একদম তুঙ্গে, হঠাৎ দেখি একটা Amazon এর গাড়ি ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছে।আমি প্রচন্ড বিরক্ত হলাম। একে এতো গন্ডগোল এর মধ্যে কে Amazon ডেলিভারি অর্ডার করেছে ? কোনো আক্কেল জ্ঞান নেই। বলি এতদিন ধরে বাড়িতে থেকেও Amazon এ শপিং শেষ হয় নি ? নাটকের ময়দানেও ডেলিভারি চাই ? কি ডেলিভারি চাই ? চেয়ার, শতরঞ্চি, ছাতা ? আর Amazon ও পারে বটে। লোকের বাড়িতে আর অফিস এ ডেলিভারি দিয়ে কুল পাচ্ছে না। এখন চলে এসেছে আমার দৃশ্যের মাঝে ডেলিভারি করতে। ভাবতে ভাবতে দেখি van থেকে নীল vest পরে Amazon এর ড্রাইভার নেবে এলো। কিন্তু তার হাথে কোনো প্যাকেজ নেই। সে সোজা স্টেজের দিকেই আসছে। এ ? এই লোকটা আমাদের নাটক দেখবে ? দীপনদার ওপর খুব রাগ হচ্ছে। একটা international audience এর সামনে অভিনয় করার সুযোগ তা হাতছাড়া হয়ে গেলো। কিন্তু Amazon এর চালক দর্শক এর জায়গায় না থেমে সোজা স্টেজ এ উঠে এলো। "Who is Ritwik?" সে জিগেশ করলো। আমাদের নাটকের দলের সদস্যরা নিরদিদিধায় আমার দিকে দেখিয়ে দিলো। আমাদের দলের নাম তা বিভীষণ ড্রামা কোম্পানি করে দেওয়া উচিত। আমি তো ভয়ে পাথর। আমার কি দোষ দীপন দা পলাতক ? আমার ডায়ালগ তো আমি ঠিকই বলেছি। এর জন্য স্টেজে ওঠে পিটানোর কোনো প্রয়োজন নেই। লোকটা আমার সামনে এসে দাঁড়ালো আর স্পষ্ট বাংলায় বললো "আপনি গত সপ্তাহে Amazon থেকে কিছু order করেননি। Headoffice থেকে আমাকে পাঠিয়েছে চেক করতে আপনি ঠিক আছেন কিনা ?" এতক্ষনে আমি ক্ষিপ্ত জনতার উন্মাদনার কথা ভুলে গেছি। আমি গত সপ্তাহে Amazon থেকে কিছু অর্ডার করি নি ? সেটা কি করে সম্ভব ? আমার কি শরীর খারাপ ? নাটক নিয়ে কি বেশি stress হয়ে গেলো ? আমার মাথা ঘুরপাক খেতে শুরু করলো। সবকিছু কিরাম ঝাপসা হয়ে গেলো ? চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেলো।।
ঘুম ভাঙলো অ্যালার্ম এর আওয়াজে । জামা ভিজে গেছে ঘামে। কি সাংঘাতিক দুঃস্বপ্ন। ফোন তা চার্জার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে Amazon এর app তা খুললাম। ঝড়ের গতিতে একটা পরচুলা অর্ডার করে ফেললাম । আজ বিকেলের মধ্যেই ডেলিভারি। পছন্দ না হলে free return . স্বস্তির নিশ্বাস নিলাম। ঠোঁটের কোন এক তৃপ্তির হাসি। যাই উঠি - রিহার্সাল এ যেতে হবে।