এই সবে ঘুমটা বেশ গাঢ় হয়েছিল। আরো দুটো স্বপ্ন তো sure দেখা যেত - তাতো আর হলো না, সক্কাল সক্কাল সা রে গা মা পার চোটে মাথাটা গেলো ধরে। বালিশ দিয়ে কান চেপে চুপে যতই ঘুমাতে চায়, সারেগামার তেজ ততই বাড়ে। রোব্বারটাও ভালো করে ঘুমাবার জোর নেই। গত সপ্তাহ থেকে গণেশ বাবাজির কাজের চাপ ও বেশ বেড়েছে। হঠাৎ করে অনেক বেশি আশীর্বাদ দিতে হচ্ছে। প্রচুর মর্ত নিবাসী গণেশ কে হাক দিচ্ছে। তাই আশীর্বাদের excel sheet টা চেক করতে করতে ইদানিং ঘুমাতে বেশ রাত হচ্ছে। চিত্রগুপ্তের সাথে meeting গুলো বেশ লম্বা চলছে। আশীর্বাদ দেওয়ারতো একটা limit আছে, তাই গণেশ এই বাজারে চিত্রগুপ্তের সাথে এক একটা case মিলিয়ে নিয়েই আশীর্বাদ বিতরণ করছে। এই সব করতে করতে প্রতিদিনই বেশ রাত হচ্ছে। ভেবেছিলো এই রোববার্তা একটু বেশিক্ষন ঘুমাবে। তা তো আর হলো না। কিছুক্ষন এপাশ ওপাশ করে অগত্যা উঠেই পড়তে হলো গণেশ বাবাজিকে।
উমা সকালে জল-খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ ছুটির দিন, ছেলেমেয়ে গুলো সব বাড়িতে তাই জলখাবারে ফুলকো লুচি আর সাদা আলুর তরকারি, সঙ্গে নবীনের দোকানের রসগোল্লা আর বোঁদে। লুচির সাথে বোঁদে ছোট ছেলের খুব প্রিয়। তাই রোববার জল খাবারে বোঁদে কখনো বাদ পরে না। জলখাবারের আয়োজন দেখে গণেশ বাবাজির মাথা ধরা টা একটু কমল।
বাইরের আকাশ টা আজ বেশ সুন্দর লাগছে। একটু বাগানে বসলে মন্দ হবে না। ভেবেই গণেশ বাইরের দরজা তা খুললো। দরজা খুলেই দেখে রোববারের কাগজ এসে গাছে। আজকাল নারদের Times of Heaven রোববারে বেশ সকাল সকাল খবরের কাগজ বিলি করে দেয় । গণেশ রোববারের কাগজ তা নিয়ে বাগানে বসলো। রোববারের কাগজ বেশি পাতার হয় বলে সময় তাও বেশ কাটে। প্রথম পৃষ্ঠা শেষ হতে না হতেই গণেশ এর লক্ষি দিদি দুকাপ ছায়া নিতে উপস্থিত। চায়ের সাথে Marie বিস্কুট। Marie বিসকুট এই বাড়িতে বিশ্বনাথ বাবুর ছাড়া আর কারুর সিমোন পছন্দ না। কিন্তু মর্তে covid এর ঠেলায় রকমারি বিসকুট export বন্ধ আছে। তাই Marie দিয়েই চা পর্ব তা সারতে হবে।
লক্ষিদি গণেশ এর খুব প্রিয়। লক্ষি দি রকমারি খাবার রান্না করে আর গণেশ সেগুলো খেতে খুব ভালোবাসে। আজকাল মা লক্ষি office নিয়ে ভীষণ excited । Office বলাটা ভুল হবে। Restaurant বলা উচিত। হ্যা, ঠিক ধরেছেন মা লক্ষি এই কিছুদিন আগে hotel management এর course ta শেষ করে কৈলাশের খুব নাম করে fine dining Heavens Delight এ trainee হিসাবে কাজ শুরু করেছে। গত মাসে সেই restaurant এ এক ভীষণ নাম করা chef head chef হিসাবে join করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে মা লক্ষ্মীর মুখে খালি তাঁরই নাম শোনা যাচ্ছে। যেমন তাঁর রকমারি খাবার বানাবার ক্ষমতা, তেমন তার আচরণ - মা লক্ষ্মী তো পুরো fan. আজ আবার খবরের কাগজে তাঁকে নিয়ে fullpage article বেরিয়েছে - "Celebrated chefs, Floyd Cardoz new journey" - মা লক্ষ্মী তো আনন্দে আটখানা। গণেশের লক্ষ্মী দিদির শ্রেষ্ঠ chef হবার স্বপ্ন টা ঠিক দিকেই এগোচ্ছে। আজকের লুচি আর সাদা আলুর তরকারি টা অবশ্য মা লক্ষ্মী বানাচ্ছে না। সাদা আলুর তরকারি বানাতে আবার chef লাগে নাকি ? ওটা মায়ের হাথেই স্বাদ বেশি।
চা পর্ব শেষ হয়ে গেলো, কিন্তু সারেগামা আর থামে না। মা সরস্বতী এবার কৈলাশ wood এর নতুন ছবি তে playback করবে ভাবছেন। এটা audition এর জন্য রেওয়াজ চলছে। Millenial দের সাথে পাল্লা দিতে হবে তো, তাতে রেওয়াজ করাটা খুব প্রয়োজন। আজকাল millenial দের সাথে পাল্লা দিতে শুধু রেওয়াজেই হয় না, technology র জ্ঞান তও দরকার। ওইটা অবশ্য মা সরস্বতীর পক্ষে সম্ভব নয়। বীনা ছাড়া সে কিছুই বোঝে না, ওইসব computer এ গান এক্কেবারে অপসংস্কৃতি। কিছুকাল আগে ঋষি দার একটা ছবি তে playback করেছিল, তারপর আর সেরম সুযোগ হয় নি। ঋষি দাও আজকাল আর বিশেষ ছবি বানাচ্ছেন না। ওনার এখন বিশ্রাম এর আমেজ, তাই মা সরস্বতী বেশ out of touch.
অনেকদিন পর কৈলাশ wood এ এক নতুন director এসেছে। তাঁর ও নাকি ঋষি দার মতন ভালো গানের কদর আছে। মা সরস্বতীর খুব ইচ্ছে এই নতুন ছবি তে playback করার। Bollywood এর খুব নাম পরিচালক, তারপর বাঙালি - মা সরস্বতীর খুব অসুবিধা হওয়া উচিত না এই project টা পেতে। তবে যতই positives থাকুক না কেন রেওয়াজের বিকল্প নেই। তাই ওই জায়গাটায় উনি কোনো compromise করবেন না। Audition তা মন দিয়ে দেবেন। No shortcuts . আজকের কৈলাশ Times এ এই নতুন ছবি নিয়ে একটা লেখাও বেরিয়েছে। অনেক দিন পর কৈলাশ wood এ বাণিজ্যিক cinema ছেরে কিছু সুন্দর গান দিয়ে বাস্তব কে তুলে ধরতে চান এই নতুন পরিচালক, বাসু চ্যাটার্জী। ছবিতে থাকবে তার পছন্দের নায়িকা বিদ্যা সিনহা আর নায়ক হিসাবে নিয়েছেন Irrfan Khan কে। মর্তে তো এই জুটি সম্ভব ছিল না, কিন্তু কৈলাশ এ তো সবাই evergreen তাই এই scope টা পেয়ে চ্যাটার্জী মশাই ভীষণ খুশি। Cinema র নাম এখনো ঠিক হয় নি, আর playback এর audition আগামী মাসে। এই খবর পরেই গণেশ বুঝে গেলো যে আসছে কয়েক রোববার তার সকালের ঘুমটা মাটি। এই সারেগামাপা বেশ কিছুদিন চলবে।
অন্যদিকে সকাল সকাল সারেগামার দয়ায় কার্তিক এর ঘুম ভাঙ্গাতে তার বেশ উপকার ই হচ্ছে। Alarm ঘড়ি তা অবশ্য ঠিক ই কাজ করে, কিন্তু কার্তিক হামেশাই সেটি বন্ধ করে আবার ঘুম দেয়। কিন্তু এই সারেগামা বন্ধ হবার যে নেই। তাই ঘুম ভেঙ্গেই যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে কার্তিক এর সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস তা চলে গেছে। অনেক কাল হয়ে গেলো তার প্রয়োজন ছিল না। দিব্বি ৮টায় উঠেই ৮:৩০ কলেজ - এই তো রুটিন। দুই মাসে আগে হঠাৎ আন্তর্জাতিক basketball তারকা, Kobe Bryant, announce করলেন যে উনি summer camp শুরু করবেন। সেটা শুনে কার্তিক এর বেশ উত্তেজনা হলো। অনেক কাল খেলাধুলা করা হয় না. এই সুযোগে এরম একজন নাম করা খেলোয়ার এর কাছে নতুন একটা খেলা শেখা যাবে। স্থির করেই ফেলেছিলো Kobe Bryant এর basketball summer camp এ ভর্তি হবে। সেই থেকেই আবার সকালে ওঠার practice চলছে। ২ সপ্তাহ আগে admission নিতে যাবে, এমন সময় Times of Heaven এ চুনি গোস্বামী র football camp এর বিজ্ঞাপন চোখে পড়লো। এই লোভ কি সামলানো যায় ? ওই কথায় আছে না "সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল" . যতই আন্তর্জাতিক তারকা হোক Kobe Bryant, বাঙালির football এর কাছে কি আর basketball দাঁড়াতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে কার্তিক চুনি দার camp এ enroll করে এলো। Camp আর ২ সপ্তাহ পরে শুরু, তাই কার্তিক বেশ কয়েকদিন ধরে সকালে উঠে বাড়ির পেছনের মাঠে football practice করা শুরু করেছে। আঃ ! First impression বলে একটা ব্যাপার আছে না। তারপর চুনি দার মতন coach এর ভাগ্য আর কজনের ই বা হয়।
দূর্গা বাজারে বাড়িতে রোববারের সকাল টা বেশ ভালোই কাটছিলো। সবাই বেশ খুশি, নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। বিশ্বনাথ বাবু রোববারের বাজার নিয়ে এলো। মা লক্ষ্মী বাবার হাত থেকে থলি তা নিয়ে সব গুছিয়ে রাখা শুরু করলো। আজকে বাজার বেশ ভালো টাটকা পাবদা পাওয়া গেছে। তাতে বিশ্বনাথ বাবু বেশ খুশি। ফ্যান তা চালিয়ে বিশ্বনাথ বাবু হাঁক দিয়ে উমার কাছে জল চাইলো। বাইরে বড্ডো গরম, তারপর ওই ভারী থলে নিয়ে তেষ্টায় বিশ্বনাথ বাবুর গলা শুকিয়ে এসেছে। ফ্যান এর হাওয়া তেই বেশ আরাম হলো। মিনিট পাঁচেক কেটে গেলো, জল এলো না। বিশ্বনাথ বাবু আবার উমা হাঁক দিলো। কোনো সারা নেই। কি হলো রে বাবা, মা লক্ষ্মী সে বললো উমা রান্নাঘরে ময়দা সানচে, সারা দেয় না কেন ? বিশ্বনাথ বাবু উঠে রান্নাঘরে এলো। উমা এক মনে ময়দা সানচে। বিশ্বনাথ বাবু আবার সামনে থেকে ডাকলো, উমার তাও কোনো সারা নেই। উমা মন দিয়ে ময়দা সানছে আর মন দিয়ে কিছু ভাবছে। বিশ্বনাথ বাবু এবার সামনে গিয়ে পিঠে একটা টোকা দিলো। উমা চমকে উঠলো। "কি হলো, কি ভাবছো তুমি ?" বিশ্বনাথ বাবু জিজ্ঞেস করলো। "কই কিছু না তো " উমা বললো। "কিছু না ? কতবার ডাকলাম, সারা দিচ্ছিলে না" বিশ্বনাথ বাবু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো। "ও তাই নাকি ? আমি তো শুনতেই পাই নি " উমা উত্তর দিলো। বিশ্বনাথ বাবু উমার হাত থেকে ময়দার বাসন তা সরিয়ে রেখে, উমাকে বসার ঘরে নিয়ে এসে পাশে বসিয়ে বললো "কি হয়েছে উমা, মুখ খানা ম্লান কেন ? রোববারের সকাল, ছেলেমেয়ে রা বাড়িতে, তোমার কি হয়েছে ?" উমা কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো, তারপর বললো "এই কিছুক্ষন আগে মা ফোন করেছিল। ওখানের অবস্থা খুব ভালো নয় গো, এবার পুজোয় আর হয়তো মায়ের কাছে যাওয়া হবে না। " বলেই উমার চোখ ছলছল করে এলো।