রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

শ্রীতমা

 শ্রীতমা 

স্কুলের টিফিন এর সময় প্রায় সব মেয়েরাই সবুজ মাঠটাতে ছড়িয়ে পরে।  classroom এর সামনে বারান্দা থেকে তমালি অন্যমনস্ক ভাবে স্কুলের মাঠের দিকে দেখছিল।  নিচু class  এর বাচ্ছা গুলো দৌড়াদৌড়ি করে খেলছে। আর কেউ কেউ ছোট দলে ভাগ হয়ে বসে গল্প করছে। 

এরকম একটা বসে থাকা জটলার দিকে হঠাৎ তমালির চোখ আটকে গেলো। ওই জটলাতে, বছরের মাঝখানে ওদের class ৯ এ নতুন ভর্তি হওয়া তামিল মেয়েটাকে ঘিরে class ৯ এর ওর প্রিয় বন্ধু সুতপাও আছে। সুতপা কে ওর সঙ্গে গল্প করতে দেখে তমালির খুব রাগ হয়ে গেলো। রোজ টিফিন খাবার পরে ও আর সুতপা classroom  এ বসে গল্প করে। কিন্তু ওই নতুন মেয়েটা ভর্তি হবার থেকে ও সব মেয়েদের কাছে popular হয়ে গেছে। 

তমালি স্কুলের president এর মেয়ে আর class  এর first girl .ও সবার সঙ্গে একটু দূরত্ব রেখে চলে। বিশেষ করে গত বছর ওর মা accident এ মারা যাবার পর থেকে ও নিজেকে আরো গুটিয়ে নিয়েছে। সুতপা ছাড়া আর কারো সঙ্গেই যেন কথা বলতে ইচ্ছে করে না। সেই সুতপাই কিনা তমালিকে ছেড়ে ওই মেয়েটার সঙ্গে আড্ডা মারছে। 

মেয়েটাকে  একদম ভালো লাগে না তমালির। একটা অদ্ভুত সেকেলে নাম - শ্রীপঞ্চমী আইয়ার। গায়ের রং বেশ কালো।  মুখোশ্রীও সেরম সুন্দর নয়। শুধু ওর চোখ দুটো কেমন আলাদা। বেশ বড়ো ভাসা ভাসা দুই চোখ। মনে হয় ওর চোখ দুটো যেন সবসময় হাসছে। আর তমালিকে দেখলেই যেন ইচ্ছে করে বেশি হাসে। ওর সঙ্গে চোখাচোখি হলেই তমালি মুখ ঘুরিয়ে নেয়। 

সুতপা বলে ওর মুখে নাকি সব সময় হাসিখুশি ভাব। তমালির ওর ওই হাসিখুশি মুখ দেখলেই খুব বিরক্ত লাগে। আর মেয়েটা ওর দিকে এমন ভাবে তাকে যেন কতকালের চেনা। 

তমালি মাঝে মাঝে confused হয়ে যায়। ওকে কি আগে কোথাও দেখেছে ? সুতপা বলে, ও এই শহরে প্রথম এসেছে। আগে ওর নিজের শহর চেন্নাই তে থাকতো। 

তবে নতুন এসেছে বলে ওর মধ্যে কোনো জড়তা নেই। সবার সঙ্গে ভুলভাল বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করে। বন্ধুরা ওর বাংলা শুনে হাসে আর ওকে সঠিক ভাবে বাংলা বলতে শেখায়। ও কিন্তু খুব আগ্রহ নিয়ে বাংলা শেখার চেষ্টা করে। 

তমালি সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছিল, যখন গত শনিবার স্কুলের annual  function  এ শ্রীপঞ্চমী স্টেজ এ ভরতনাট্যম perform করলো। সমস্ত hall হাততালিতে ফেটে পড়েছিল। শুধু তমালি হাততালি দেয় নি। তখন ওর মায়ের কথা মনে পড়ছিলো।  তমালির মাও ভরতনাট্যম নাচতেন। মা যখন stage  এ নাচতো তমালি তখন মুগ্ধ হয়ে মায়ের নাচ দেখতো। মাকে তখন ওর স্বর্গের দেবীর মতন লাগতো। আর ওই কালো মেয়েটা যখন stage  এ নাচ করছিলো তখন ওর নাচ তমালির একটুও ভালো লাগে নি। ও চেন্নাই থেকে এসেছে বলেই কি তমালির ওর ওপর এতো রাগ ?

টিফিন শেষের ঘন্টা পরে, তমালি বাস্তবে ফেরে। সব মেয়েরা নিজের নিজের ক্লাসরুম এর দিকে দৌড় লাগায়।  শ্রীপঞ্চমীও দৌড়ে classroom এ ঢুকলো। ঢোকার সময় তমালির সঙ্গে একটু ধাক্কা লাগে। শ্রীপঞ্চমী sorry বলে দাঁড়িয়ে পরে আর অদ্ভুত ভাবে তমালির দিকে তাকিয়ে থাকে। তমালির আবার মনে হয় এই ছাউনি ওর খুব চেনা। ওকে যেন আগে কোথাও দেখেছে। ওর ওপরে রাগ করতে গিয়েও নরম হয়ে যায় তমালি।  এলোমেলো চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরলো তমালি।  শোবার ঘরে ঢুকে দেখে মায়ের বড় ছবিটার সামনে বাবা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।  বাবার চোখে জল। 

তমালি জানে, ঠিক এক বছর আগেই এই অভিশপ্ত দিনে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ওর মা গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দশদিন হাসপাতালে senseless থেকে তারপর মারা যায়। ওর south India বেড়াতে গেছিলো।  সেদিন বাড়ি ফেরার জন্য চেন্নাই airport যাচ্ছিলো। তখন ওই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। তমালির আর কিছু মনে নেই। একটা দুঃস্বপ্ন ওকে তারা করে। মাকে আর কোনোদিনই দেখতে পায় নি।  ও এতো shocked হয়েছিল যে তিন মাস ওর পিসির কাছে Bombay  তে ওর চিকিৎসা করতে হয়েছিল। এখন মায়ের এই ছবিটার সঙ্গে কথা বলে সে। বাবা আর মেয়ে দুজন দুজনকে আগলে রাখে। 

তমালি আস্তে করে বাবার পাশে দাঁড়ায়।  বাবার হাতটা নিজের হাথের মুঠোয় শক্ত করে ধরে বলে, "কেঁদো না বাবা, আমি ভাবি মা বাড়ী নেই।  নাচের show করতে দূরে কোথাও গেছে। "

তমালির বাবা চোখ মুছে বলেন, "ঠিক বলেছিস, এখন থেকে আমিও তাই ভাববো।  তোর মা অন্য ভাবে আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। " তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে বলেন, "তোকে বলা হয় নি, আজ আমার এক বন্ধু কে dinner এ invite করেছি।অনেকদিন ধরেই ওর এখানে আসার অপেক্ষা করছিলাম। আজ তোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। যা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে ".

প্রচন্ড কৌতুহল নিয়ে তমালি ঘরবার করতে লাগলো। বাবার কে সেই বিশেষ বন্ধু, যার আসার জন্য বাবা এতো অপেক্ষা করে ? আর আজকের এই ভীষণ দুঃখের দিনে তাকে dinner  এ ডাকতে পারে ?

সন্ধ্যা ঠিক সারে সাতটার সময় calling bell বাজতেই টমলি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলেই চমকে গেলো। দরজার বাইরে একমুখ হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শ্রীপঞ্চমী। আর ওর পিছনে একজন অচেনা ভদ্রলোক।

শ্রীপঞ্চমীর চোখও বিস্ফোরিত।  এটা যে তমালির বাড়ি তা ওর ধারণার বাইরে ছিল। ভদ্রলোক ভাঙা বাংলায় বলছেন "তুমি নিশ্চয় তমালি ? Good evening ".তমালির বাবার উচ্ছাসিত গলা শোনা গেলো, "Hello Mr. Iyer, good evening, এতদিন পরে আমার বাড়িতে আসার সময় হলো ?". 

তারপর শ্রীপঞ্চমীর মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন। ওর মাথায় হাত রেখে খুব আপন জনের মতন জিজ্ঞেস করলেন  "কেমন আছো মা ?" . 

আজ তমালির শুধু অবাক হবার পালা। বাবা শ্রীপঞ্চমী কে আগে থেকে চিনতো ? ওর কথা কখনো বলেনি তো। 

তমালির বাবা তমালিকে জিজ্ঞেস করলেন "কিরে ওকে চিনতে পারছিস ?" 

- হ্যা আমার class  এ পরে। 

- ভালো করে দেখ, আগে কখনো দেখিস নি ?

- আগে কোথায় দেখেছি, মনে করতে পারছি না। 

- সবাই ওপরে চলো, ঠিক চিনতে পারবি। আসুন Mr. Iyer .

তমালি আর শ্রীপঞ্চমী দুজনেই খুব অবাক হচ্ছিলো। োর কেউ কাউকে আগে দেখে নি অথচ দুজনকেই দুজনের খুব চেনা মনে হয়। 

তমালির বাবা ওদের নিয়ে শোবার ঘরে তমালির মায়ের ছবির সামনে এনে শ্রীপঞ্চমী কে ওর মায়ের ছবিটি ঠিক নিচে দাঁড় করিয়ে দিলেন। 

তারপর তমালিকে বললেন, "এবার শ্রীপঞ্চমীর মুখটা দেখ, মনে হয় না ওর চোখ দুটো হাসছে ? ঠিক যেমন তোর মায়ের চোখ দুটো সবসময় হাসতো। "

তমালি দেখলো, তাইতো, ছবিতে মায়ের হাসি মাখা চাউনি আর ওর দিকে তাকিয়ে থাকা শ্রীপঞ্চমীর চাউনি ঠিক একরকম। এবার যেন ও শ্রীপঞ্চমীকে চিনতে পারছে। 

Mr. Iyer বললেন "তোমরা এতো অবাক হয়ো না। আজ তোমাদের অনেক কথা জানানোর জন্য আমরা সবাই এক জায়গায় হয়েছি"। 

এক বছর আগে ঠিক এইদিনেই দুপুর বেলা প্রায় দুটোর সময় তোমাদের তিনজন কে নিয়ে তোমাদের গাড়িটা চেন্নাই airport এর দিকে যাচ্ছিলো। রাস্তা ফাঁকা থাকায় driver বেশ জোরে গাড়ি চালাচ্ছিল। হটাৎ সে বুঝতে পারে গাড়ির brake fail  করেছে।  Driver প্রাণপনে গাড়ি থামাবার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না।  শেষে উল্টো দিক থেকে আসা একটা scooter কে  ধাক্কা মেরে তারপর রাস্তার বা দিকে একটা বড় গাছে ধাক্কা লাগিয়ে থেমে যায়। Driver , তোমার বাবা আর তোমার বিশেষ কিছু হয় নি। তুমি জ্ঞান হারিয়েছিলে। আর গাড়ির পিছনে বাঁদিকে বসে থাকা তোমার মায়ের মাথায় আঘাত লেগে internal hemorrhage শুরু হয়। ওই scooter এ করে পঞ্চমীর মা ওকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো।  ওর মায়ের ওখানেই সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয়। আর পঞ্চমী scooter থেকে ছিটকে পরে মাথায় চোট পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। 

হাসপাতালে নিয়ে যাবার ২৪ ঘন্টা পরে পঞ্চমীর জ্ঞান ফিরে আসলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে না। Specialist ডাক্তার বললেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চোখের operation করতে হবেনইলে চিরকালের মতন অন্ধ হয়ে যাবে। একজন সুস্থ চোখের eye donor লাগবে। আমার তখন পাগলের মতন অবস্থা। ওই হাসপাতালে তোমার মা তখন senseless অবস্থায় ছিলেন।  তোমার বাবার সঙ্গে আলাপ হলো। শুনলাম accident এর পরের দিনই তোমার পিসি এসে তোমাকে তার কাছে মুম্বাই নিয়ে গেছে। তুমি ভীষণ mental shock পেয়েছিলে। 

দুটো পরিবারের উপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়া এক ভয়ঙ্কর বিপদ আমাদের দুজন অসহায়, হতবুদ্ধি বাবাকে কাছাকাছি এনে দিয়েছিলো। আমরা দুজন বাঙালি আর তামিল যেন দুই ভাইএর মতন হয়ে গেলাম। 

দশদিন পর ডাক্তাররা জানালেন তোমার মায়ের brain death হয়েছে। সেই অবস্থায় তোমার বাবা আমার পাশে ঈশ্বরের মতন দাঁড়ালেন।  তার ইচ্ছা অনুযায়ী তোমার মায়ের সুস্থ, সুন্দর চোখ দুটো পঞ্চমীকে দান করে ওর দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। তোমার মায়ের চোখ দিয়ে পঞ্চমী এখন এই জগতে সবকিছু দেখতে পারছে। ওর এই সুস্থ স্বাভাকিক জীবন ফিরে পাওয়া তোমার মায়ের দানে সম্ভব হয়েছে। 

আমি তোমার বাবা ও মায়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। এর প্রতিদান দেওয়া যায় না। শুধু পরম কৃতজ্ঞতাই তোমার মাকে স্মরণ রাখার জন্য সেই থেকে পঞ্চমীর নামের আগে তোমার মায়ের নামের "শ্রী" টুকু জুড়ে দিয়েছি। 

তমালির দুচোখ দিয়ে তখন অঝোর ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে। মনে পড়লো ওর মায়ের নাম ছিল শ্রীতমা সান্যাল। তখন চোখের জলের ঝাপসা দৃষ্টিতেও তমালি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলো ওই কালো মেয়ে শ্রীপঞ্চমী ওর মায়ের "শ্রী" টুকু নিয়ে কি সুন্দর হাসছে। আর মায়ের "তমা" টুকু ওর কাছেই রয়ে গেছে। 

শ্রীতমা ভীষণ ভাবে বেঁচে আছে ওদের দুজনের মধ্যে। 

                                                                                                                        - সুস্মিতা সেন 

 




সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কৈলাশ ২০২০

এই সবে ঘুমটা বেশ গাঢ় হয়েছিল।  আরো দুটো স্বপ্ন তো sure  দেখা যেত - তাতো  আর হলো না, সক্কাল সক্কাল সা রে গা মা পার চোটে মাথাটা গেলো ধরে। বালিশ দিয়ে কান চেপে চুপে যতই ঘুমাতে চায়, সারেগামার তেজ ততই বাড়ে। রোব্বারটাও ভালো করে ঘুমাবার জোর নেই। গত সপ্তাহ থেকে গণেশ বাবাজির কাজের চাপ ও বেশ বেড়েছে। হঠাৎ করে অনেক বেশি আশীর্বাদ দিতে হচ্ছে। প্রচুর মর্ত নিবাসী গণেশ কে হাক দিচ্ছে। তাই আশীর্বাদের excel sheet  টা চেক করতে করতে ইদানিং ঘুমাতে বেশ রাত হচ্ছে। চিত্রগুপ্তের সাথে meeting গুলো বেশ লম্বা চলছে। আশীর্বাদ দেওয়ারতো একটা limit আছে, তাই গণেশ এই বাজারে চিত্রগুপ্তের সাথে এক একটা case মিলিয়ে নিয়েই আশীর্বাদ বিতরণ করছে। এই সব করতে করতে প্রতিদিনই বেশ রাত হচ্ছে। ভেবেছিলো এই রোববার্তা একটু বেশিক্ষন ঘুমাবে। তা তো আর হলো না। কিছুক্ষন এপাশ ওপাশ করে অগত্যা উঠেই পড়তে হলো গণেশ বাবাজিকে।

উমা সকালে জল-খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।  আজ ছুটির দিন, ছেলেমেয়ে গুলো সব বাড়িতে তাই জলখাবারে ফুলকো লুচি আর সাদা আলুর তরকারি, সঙ্গে নবীনের দোকানের রসগোল্লা আর বোঁদে। লুচির সাথে বোঁদে ছোট ছেলের খুব প্রিয়। তাই রোববার জল খাবারে বোঁদে কখনো বাদ পরে না। জলখাবারের আয়োজন দেখে গণেশ বাবাজির মাথা ধরা টা একটু কমল।

বাইরের আকাশ টা আজ বেশ সুন্দর লাগছে।  একটু বাগানে বসলে মন্দ হবে না। ভেবেই গণেশ বাইরের দরজা তা খুললো।  দরজা খুলেই দেখে রোববারের কাগজ এসে গাছে।  আজকাল নারদের Times  of  Heaven রোববারে বেশ সকাল সকাল খবরের কাগজ বিলি করে দেয় । গণেশ রোববারের কাগজ তা নিয়ে বাগানে বসলো। রোববারের কাগজ বেশি পাতার হয় বলে সময় তাও বেশ কাটে।     প্রথম পৃষ্ঠা শেষ হতে না হতেই গণেশ এর লক্ষি দিদি দুকাপ ছায়া নিতে উপস্থিত। চায়ের সাথে Marie বিস্কুট।  Marie বিসকুট এই বাড়িতে বিশ্বনাথ বাবুর ছাড়া আর কারুর সিমোন পছন্দ না।  কিন্তু মর্তে covid এর ঠেলায়   রকমারি বিসকুট export বন্ধ আছে। তাই Marie দিয়েই চা পর্ব তা সারতে হবে।

লক্ষিদি গণেশ এর খুব প্রিয়। লক্ষি দি রকমারি খাবার রান্না করে আর গণেশ সেগুলো খেতে খুব ভালোবাসে। আজকাল মা লক্ষি office নিয়ে ভীষণ excited । Office  বলাটা ভুল হবে। Restaurant বলা উচিত। হ্যা, ঠিক ধরেছেন মা লক্ষি এই কিছুদিন আগে hotel  management  এর course  ta  শেষ করে কৈলাশের খুব নাম করে fine dining Heavens Delight এ trainee হিসাবে কাজ শুরু করেছে। গত মাসে সেই restaurant এ এক ভীষণ নাম করা chef  head chef হিসাবে join করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে মা লক্ষ্মীর মুখে খালি তাঁরই নাম শোনা যাচ্ছে। যেমন তাঁর রকমারি খাবার বানাবার ক্ষমতা, তেমন তার আচরণ - মা লক্ষ্মী তো পুরো fan.  আজ আবার খবরের কাগজে তাঁকে নিয়ে fullpage article বেরিয়েছে - "Celebrated  chefs, Floyd Cardoz new journey" - মা লক্ষ্মী তো আনন্দে আটখানা। গণেশের লক্ষ্মী দিদির শ্রেষ্ঠ chef হবার স্বপ্ন টা ঠিক দিকেই এগোচ্ছে। আজকের লুচি আর সাদা আলুর তরকারি টা অবশ্য মা লক্ষ্মী বানাচ্ছে না। সাদা আলুর তরকারি বানাতে আবার chef লাগে নাকি ? ওটা মায়ের হাথেই স্বাদ বেশি। 

চা পর্ব শেষ হয়ে গেলো, কিন্তু সারেগামা আর থামে না। মা সরস্বতী এবার কৈলাশ wood  এর নতুন ছবি তে playback করবে ভাবছেন। এটা audition এর জন্য রেওয়াজ চলছে। Millenial দের  সাথে পাল্লা দিতে হবে তো, তাতে রেওয়াজ করাটা খুব প্রয়োজন। আজকাল millenial দের সাথে পাল্লা দিতে শুধু রেওয়াজেই হয় না, technology র জ্ঞান তও দরকার। ওইটা অবশ্য মা সরস্বতীর পক্ষে সম্ভব নয়। বীনা ছাড়া সে কিছুই বোঝে না, ওইসব computer এ গান এক্কেবারে অপসংস্কৃতি। কিছুকাল আগে ঋষি দার একটা ছবি তে playback করেছিল, তারপর আর সেরম সুযোগ হয় নি। ঋষি দাও আজকাল আর বিশেষ ছবি বানাচ্ছেন না। ওনার এখন বিশ্রাম এর আমেজ, তাই মা সরস্বতী বেশ out of touch. 

অনেকদিন পর কৈলাশ wood  এ এক নতুন director এসেছে। তাঁর ও নাকি ঋষি দার মতন ভালো গানের কদর আছে। মা সরস্বতীর খুব ইচ্ছে এই নতুন ছবি তে playback  করার। Bollywood এর খুব নাম পরিচালক, তারপর বাঙালি - মা সরস্বতীর খুব অসুবিধা হওয়া উচিত না এই project টা পেতে। তবে যতই positives  থাকুক না কেন রেওয়াজের বিকল্প নেই। তাই ওই জায়গাটায় উনি কোনো compromise  করবেন না।  Audition তা মন দিয়ে দেবেন।  No shortcuts . আজকের কৈলাশ Times এ এই নতুন ছবি নিয়ে একটা লেখাও বেরিয়েছে।  অনেক দিন পর কৈলাশ wood এ বাণিজ্যিক cinema ছেরে কিছু সুন্দর গান দিয়ে বাস্তব কে তুলে ধরতে চান এই নতুন পরিচালক, বাসু চ্যাটার্জী। ছবিতে থাকবে তার পছন্দের নায়িকা বিদ্যা সিনহা আর নায়ক হিসাবে নিয়েছেন Irrfan Khan কে। মর্তে তো এই জুটি সম্ভব ছিল না, কিন্তু কৈলাশ এ তো সবাই evergreen তাই এই scope  টা পেয়ে  চ্যাটার্জী মশাই ভীষণ খুশি। Cinema র নাম এখনো ঠিক হয় নি, আর playback এর audition আগামী মাসে। এই খবর পরেই গণেশ বুঝে গেলো যে আসছে কয়েক রোববার তার সকালের ঘুমটা মাটি। এই সারেগামাপা বেশ কিছুদিন চলবে। 

অন্যদিকে সকাল সকাল সারেগামার দয়ায় কার্তিক এর ঘুম ভাঙ্গাতে তার বেশ উপকার ই হচ্ছে। Alarm ঘড়ি তা অবশ্য ঠিক ই কাজ করে, কিন্তু কার্তিক হামেশাই সেটি বন্ধ করে আবার ঘুম দেয়। কিন্তু এই সারেগামা বন্ধ হবার যে নেই।  তাই ঘুম ভেঙ্গেই যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে কার্তিক এর সকালে ঘুম থেকে ওঠার  অভ্যেস তা চলে গেছে। অনেক কাল হয়ে গেলো তার প্রয়োজন ছিল না। দিব্বি ৮টায় উঠেই ৮:৩০ কলেজ - এই তো রুটিন। দুই মাসে আগে হঠাৎ আন্তর্জাতিক basketball তারকা, Kobe Bryant, announce করলেন যে উনি summer camp শুরু করবেন। সেটা শুনে কার্তিক এর বেশ উত্তেজনা হলো। অনেক কাল খেলাধুলা করা হয় না. এই সুযোগে এরম একজন নাম করা খেলোয়ার এর কাছে নতুন একটা খেলা শেখা যাবে। স্থির করেই ফেলেছিলো Kobe  Bryant এর basketball summer camp এ ভর্তি হবে। সেই থেকেই আবার সকালে ওঠার practice চলছে। ২ সপ্তাহ আগে admission  নিতে যাবে, এমন সময় Times of Heaven এ চুনি গোস্বামী র football camp এর বিজ্ঞাপন চোখে পড়লো। এই লোভ কি সামলানো যায় ? ওই কথায় আছে না "সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল" . যতই আন্তর্জাতিক তারকা হোক Kobe Bryant, বাঙালির football এর কাছে কি আর basketball দাঁড়াতে পারে।  সঙ্গে সঙ্গে কার্তিক চুনি দার camp  এ enroll করে এলো। Camp আর ২ সপ্তাহ পরে শুরু, তাই কার্তিক বেশ কয়েকদিন ধরে সকালে উঠে বাড়ির পেছনের মাঠে football  practice করা শুরু করেছে। আঃ ! First impression বলে একটা ব্যাপার আছে না। তারপর চুনি দার মতন coach এর ভাগ্য আর কজনের ই বা হয়। 

দূর্গা বাজারে বাড়িতে রোববারের সকাল টা বেশ ভালোই কাটছিলো। সবাই বেশ খুশি, নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যাস্ত।  বিশ্বনাথ বাবু রোববারের বাজার নিয়ে এলো। মা লক্ষ্মী বাবার হাত থেকে থলি তা নিয়ে সব গুছিয়ে রাখা শুরু করলো। আজকে বাজার বেশ ভালো টাটকা পাবদা পাওয়া গেছে।  তাতে বিশ্বনাথ বাবু বেশ খুশি। ফ্যান তা চালিয়ে বিশ্বনাথ বাবু হাঁক দিয়ে উমার কাছে জল চাইলো। বাইরে বড্ডো গরম, তারপর ওই ভারী থলে নিয়ে তেষ্টায় বিশ্বনাথ বাবুর গলা শুকিয়ে এসেছে। ফ্যান এর হাওয়া তেই বেশ আরাম হলো। মিনিট পাঁচেক কেটে গেলো, জল এলো না। বিশ্বনাথ বাবু আবার উমা হাঁক দিলো। কোনো সারা নেই। কি হলো রে বাবা, মা লক্ষ্মী সে বললো উমা রান্নাঘরে ময়দা সানচে, সারা দেয় না কেন ? বিশ্বনাথ বাবু উঠে রান্নাঘরে এলো। উমা এক মনে ময়দা সানচে। বিশ্বনাথ বাবু আবার সামনে থেকে ডাকলো, উমার তাও কোনো সারা নেই। উমা মন দিয়ে ময়দা সানছে আর মন দিয়ে কিছু ভাবছে। বিশ্বনাথ বাবু এবার সামনে গিয়ে পিঠে একটা টোকা দিলো। উমা চমকে উঠলো। "কি হলো, কি ভাবছো তুমি ?" বিশ্বনাথ বাবু জিজ্ঞেস করলো। "কই কিছু না তো " উমা বললো। "কিছু না ? কতবার ডাকলাম, সারা দিচ্ছিলে না" বিশ্বনাথ বাবু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো। "ও তাই নাকি ? আমি তো শুনতেই পাই নি " উমা উত্তর দিলো। বিশ্বনাথ বাবু উমার হাত থেকে ময়দার বাসন তা সরিয়ে রেখে, উমাকে বসার ঘরে নিয়ে এসে পাশে বসিয়ে বললো  "কি হয়েছে উমা, মুখ খানা ম্লান কেন ? রোববারের সকাল, ছেলেমেয়ে রা বাড়িতে, তোমার কি হয়েছে ?" উমা কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো, তারপর বললো "এই কিছুক্ষন আগে মা ফোন করেছিল।  ওখানের অবস্থা খুব ভালো নয় গো, এবার পুজোয় আর হয়তো মায়ের কাছে যাওয়া হবে না। " বলেই উমার চোখ ছলছল করে এলো।  








শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

রায়তা

সবেমাত্র সোফায় গা এলিয়ে বসে TV টা চালিয়েছি। channel টাও বাছা হয় নি। এর মধ্যে রান্নাঘর থেকে হুংকার এলো। "Chair এর তলা তা vacuum করেছো ? আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।  মা বগলার দিব্বি দিয়ে বলতে পারি - last আধ ঘন্টা ধরে সারা বাড়ি জরিপ করেছি - কোথাও ধুলো ময়লা কিছুই চোখে পরে নি। এমনকি সামনের ঘরে সোফার তলায় প্রাগৈতিহাসিক আমলের একটা biscuit এর প্যাকেট লুকিয়ে ছিল।  ঠিক নজর করে সেটা আমি তুলে নিয়েছি। আজ বাড়িতে party. কোনো খুঁত রাখা চলবে না।  chair  এর তলায় কি যে এমন জঘন্য পরিস্তিতি তাও বুঝতেই পারছি না।  এখন আর damage control করা ছাড়া উপায় নেই। উত্তেজিত ভাবে গিন্নির প্রশ্নে জবাব দিলাম - "না ওটা বাকি আছে।  শিগ্গিরি এসে দেখে যাও Covid নিয়ে news  এ কি বলছে। " কপাল ভালো ছিল - news এর চ্যানেল টা খুঁজে পেতে না পেতেই গিন্নির প্রবেশ। Last কদিন এ আমি লক্ষ করেছি যে news দেখলেই গিন্নির মেজাজ একদম তিরিক্ষে হয়ে যায়।  সব কিছু ছেড়ে একদম গালি গালাজ এ নেমে পরে। বুঝি না বাবা, Lysol টা খাবে না গায়ে মাখবে তাই নিয়ে কিছু লোক গম্ভীর ভাবে বিবেচনা করছে। তাতে এতো রেগে যাবার কি আছে কে জানে? যতক্ষনে গিন্নির মেজাজ এর পারা ঠান্ডা হবে, ততক্ষনে chair  এর তলা, পাপোশের তোলা, fridge এর তলা এমনকি তুলসী তলাও পরিস্কার হয়ে যাবে । এ যাত্রায় ফারা কাটলো। এখন থেকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। 

এর পর রান্না করার পালা।  সেখানে কোনো ভুল হলে আর রক্ষে নেই।  সোজা গোসাঘরে খিল।

News এর পালা শেষ হলে মৃদুস্বরে গিন্নি কে জিজ্ঞেস করলাম - "আজ Party র মেনু টা কি ?". মেনুর কথা শুনেই দেবী মায়ের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।  দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে নিজেকে বার করে এনে উৎফুল্ল স্বরে জবাব দিলো - "ভাজা মুগের ডাল, বেগুন ভাজা, ছানার ডালনা, আলুর দম, চিকেন curry, সর্ষে মাছ, চাটনি, পাঁপড়। সঙ্গে ভাত ". আমার মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাচ্ছিলো - "পায়েস টা বাদ দিলে কেন ?"  কোনো মতে নিজেকে সংযম করলাম।  এই বাজারে এই রকম মস্করা করে নিজের দুঃসাহসের পরিচয় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ভাগ্গিস মিষ্টি দই তা বাইরে থেকে আনা হয়েছে। আমি একটু মনে শঙ্কার ভাব করে জিজ্ঞেস করলাম - "ওরা এতো কিছু খাবে ?" দেবীর ভ্রূকুটি লক্ষ্য করেই বললাম "মানে ওরা তো অবাঙালি, ওদের কি এতো কিছু পছন্দ হবে ?" এখানেই বলে নি, আমাদের আজকের অতিথি বৃন্দ উত্তর ভারতীয়।  তাঁরা অতিথি আপ্পায়ন করে rajma chawal বা kadhi chawal খাইয়ে। কপাল ভালো থাকলে butter chicken । বাঙালি party র এই অসংখ্য পদ বোধয় overkill হয়ে যাবে। In fact আমি নিশ্চিত যে এরম multi-pod এ খাওয়ার অভ্যেস এদের নেই।  কিন্তু এই বিষয়ে আমার মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই। তাই অগত্যা apron পরে বেগুন কাটতে বসলাম। 

রান্না শেষ হতে হতে বিকেল ৬টা।  আর কিছুক্ষনের মধ্যেই জনতার আবির্ভাব ঘটবে।  চান করে, ভালো জামাকাপড় পরে সবে scent এর বোতল এ হাত দিয়েছি কি doorbell এ ডাক পড়লো।  তড়িঘড়ি করে দরজা খুলতে যাব কি দেখি গিন্নি আগেই সেখানে উপস্থিত।  আমি অতিথি আপ্পায়নে যোগ দেওয়ার আগেই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। দরজা দিয়ে ভিতরে আসার জায়গায় - হঠাৎ দেখি সবাই বাইরে বেরিয়ে গেলো আর গিন্নি দরজা বন্ধ করে দিলো।  আমি তো অবাক।  এ কিরম অসভ্যতা ?  অতিথি তো দেবতা।  তার মুখে এরম করে দরজা বন্ধ করে কেউ ? আর তাছাড়া এতো খাবার।  তার কি হবে ? আমার মুখে প্রশ্নের চাপ দেখে উত্তর দিলো - Patio Party . এই চারিদিকে কোভিদ  এর ঠেলায় বাড়িতে আর লোক ঢোকানো যাচ্ছে না।  তাই সবাই মিলে decide করেছে বাইরে বাগানে পার্টি হবে। এই বলে গিন্নি চলে গেলো চায়ের জল গরম করতে।  Patio  Party ? এর মানে কি ? আমি সারাটা সকাল মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাড়ি পরিষ্কার করেছি। রান্না ঘরের গ্যাস, সোফার cushion, bathroom  এর basin - কিছুই বাকি যায় নি। এতো কিছুর পরে patio  party ? মানে কেউ বাড়ির ভেতরে আসবে না ? কি সাংঘাতিক চক্রান্ত।

অভিমান হজম করে বাইরে বাগানে এসে দেখি already চা আর সিঙ্গারা serve  হয়ে গেছে।  অতিথি আপ্পায়নে আমার গিন্নির জুড়ি পাওয়া কঠিন। যেন অতিথি আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে বাঙালি জাতির aristocracy  আর  sophistication represent করা হচ্ছে।  সত্যি - চব্য চশ্যের মাধ্যমে জাতির উন্নয়ন, এই concept তা বাঙালি ছাড়া আর কেউ বোধয় relate করতে পারবে না। যাই হোক - এই জাতি উন্নয়নের মাঝেই আড্ডা চলতে থাকলো। আজকের বিষয় মূলত Covid নিয়ে। কে কবার বাজার যাচ্ছে, কোন বাজার যাচ্ছে, কবার হাত ধুচ্ছে, কবার জামা কাচছে - এই নিয়ে গুরুতর আলোচনা। আমি বুঝলাম, এই topic এ মুখ বন্ধ রাখাই ভালো।  গিন্নি সকালেই আমাকে সাবধান করে দিয়েছে, sensitive topic  এ বেশি জ্ঞান না জাহির করতে।  ওতে মানুষ offended  feel করতে পারে। তাই এই pandemic related social  আর political topic এ আমার প্রবেশ নিষেধ। Sanitizer হাতে মাখবে না তাই দিয়ে চান করবে এটা অত্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার - আমার এতে কোনো মতামত নেই। In fact আমি জানতেও চাই না বাইরের জামাকাপড় সবাই কোথায় ছাড়ছে।  আমার সামনে না ছাড়লেই হলো।

সন্ধে গড়িয়ে রাত বাড়লো।  এবার dinner  টাইম।  মানে official dinner  টাইম। unofficial ডিনার বিকেল ৬তা থেকেই চলছে। খাবারের item এর সাজ ও সংখ্যা দেখে সকলের চক্ষু চড়কগাছ। "itna kuch kyu banaya ? daal  aur chawal  ke  saath yeh sab kyu hain ?" একজন বলে উঠলো।  বোঝো ঠেলা। শুধু ডাল ভাত দিয়ে আবার খাওয়া যায় নাকি? তার সাথে "এটা, ওটা, সেটা" না হলে রাতে ঘুম আসে না। তবে হ্যা, এইরকম বন্ধু থাকা এক দিক থেকে ভালো।  বেশি expectation  থাকে না ।  কিন্তু সর্ষে মাছ খেতে  খেতে যখন একজন জিজ্ঞেস করলো "Raita milegi ?", আমার মাথায় যেন বজ্রপাত হলো।  মাছ না সর্ষে, কে যে বেশি offence নিলো এই প্রশ্নে, সেটা বোঝা মুস্কিল।  আমি হতাশা লুকিয়ে অবাক হবার ভাণ করে জিজ্ঞেস করলাম - "Raita kyu ?". "Yaar taste badiya lagega" উত্তর এলো। ইয়ার্কি হচ্ছে ? সর্ষে মাছে raita মিশিয়ে taste enhancement হবে ? Blasphemous . আমার মাথায় visuvious erupt করার আগেই দেখি গিন্নি কথা থেকে এক বাটি raita নিয়ে এলো।  ধন্য গৃহিনী, তোমায় জাদুগর বরফির সেলাম ।  এইরকম magic, mere mortal দ্বারা সম্ভব নয়।

ভুরি ভোজ সম্পন্ন হলে একে একে সবাই প্রস্থান করলো।  গিন্নির মুখের একটা উজ্জ্বল ভাব।  বুঝলাম party successful. Finally একটু জিরোবার সুযোগ পেলাম। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলাম যে কয়েকটা বিশেষ কারণের জন্যই আজকের এই party successful. For the greater good সেগুলো আমি সবার সাথে share  করছি -
১. Covid or not - বাঙালির আড্ডা কিছুতেই আটকায় না।  বাগানে  বেঞ্চি পেতে ৬ foot দূরে বসেও আমরা মনের আনন্দে পর নিন্দা পর চর্চা করতে পারি।
২. জাতির মান রক্ষা খুব গুরুত্ব পূর্ণ - তাই খাবারের সাজ. সংখ্যা এবং স্বাদ এ কার্পণ্য করবেন না।
৩.  Raita can be a lifesaver
আর finally  -
৪. গৃহিনীর কোথায় শেষ কথা - নিজের মতামত প্রকাশ করে মাতব্বরি মারার প্রয়োজন নেই।  গৃহিণীর যেখানে পথে চললেই মঙ্গোল।

এবার শুতে যাই।  আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পরের party র planning শুরু হয়ে যাবে।  

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০

বিয়েবাড়ি

বিয়েবাড়ি

ছোটবেলা থেকেই বিয়েবাড়ির  ব্যাপার টা আমার কাছে খুব প্রিয় । না, Romantic / Social অ্যাঙ্গেল থেকে নয়। ভুরিভোজ এর angle থেকে। মানে কার বিয়ে, কোথায় বিয়ে, কেমন বিয়ে - এগুলোর প্রতি আমার কোনো কৌতূহল ছিল না। আমার দৃষ্টি ছিল খালি খাবার প্রতি। কিন্তু এই মনোবৃত্তি টা ভদ্র সমাজ নিচু চোখে দেখে।  এটাকে নাকি হ্যাংলামি বলে। আর এইটা আমি বঝতে পারলাম যখন রানু মাসির বিয়েতে ৮ তা রসগোল্লা, ৫ হাতা দই  আর ২ই  গাল থাপ্পড় পরপর আমার কপালে জুটলো।
বুঝলাম, আমাকে পদ্ধতি বদলাতে হবে।  গোপনীয়তা আর চতুরতার প্রয়োজন। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে অধিকাংশ বাঙালি আমার সাথে এই ব্যাপারে একমত। কৌতূহল হচ্ছে ? তাহলে আর দেরি না করে পাঠকদের সামনে আমার এই গোপন কৌশল আজ খুলে ধরছি। অনেক অনুশীলন, উপাসনা এবং কানমলা র পর এই সিদ্ধি লাভ হয়েছে।  সম্ভ্রম নিয়ে পড়বেন।

 ১. পোশাক : যাক-জমক হয় চাই, পকেট চাই, কোমরে ঢিলা চাই।
২. প্রাথমিক নিরীক্ষণ : দরজায় দাড়িয়ে থাকা অতিথি আপ্পায়নকরি দের দিকে একঝাক নম্র হেসে সোজা এগিয়ে যাবেন  খাবার জায়গায়। কিন্তু গিয়েই খেতে বসে যাবেন না। লোকে দেখে ছিঃ ছিঃ করবে।  ইটা হলো reconnaissance mission . চসিকের কোন দিয়ে লোকের পাতের দিকে তাকিয়ে দেখে নেবেন পছন্দের item  গুলো।  menu  কার্ড  জোগাড় করতে পারলে  কেল্লা ফতে।  টিক মেরে রাখতে পারেন।  তবে হ্যা, সঙ্গে যদি ছোট বাছা, শিশু, বয়স্ক মানুষ  থাকে তাহলে তো কোথায় নেই।  school , পরীক্ষা, আবহাওয়া, শরীর র দোহাই দিয়ে first  batch এ বসে যাবেন।
৩. সামাজিক কর্তব্য: বিয়েবাড়ি গেছেন, তাই কষ্ট করে হলেও একটু বড় আর বধূর মুখ দর্শন করে নেবেন। এক গাল হেসে, "খুব সুন্দর জুটি হয়েছে" বলে সামাজিক দায়িত্ব পালন করবেন । Gift  এর খাম টা দিতে ভুলবেন না। এতে ভবিষ্যতের অনুষ্ঠান গুলোর নেমন্তন্ন পাকা  হয়ে থাকবে। কাছে পিঠে camera man থাকলে কটা ছবি তুলে নেবেন। প্রমাণ থাকবে যে আপনি শুধু খেতে আসেন নি।
৮. পেট পুজো : এইটাই আপনার প্রধান উদ্দেশ্য। তাই মন দিয়ে পড়ুন।
এখনো কিছু জায়গায় টেবিল বসে seated dinner এর ব্যবস্থা থাকে ।  তাতে কয়েকটা সমস্যা দেখা দেয় । তার সমাধান বলে দিচ্ছি -
- প্রথম সমস্যা হলো Timing: আপনি তদারকি করতে গেছেন আর দেখেন যে সদ্য একটা খাবার batch শুরু হয়েছে। মানে শেষ হতে আরো আধ ঘন্টা। তাই ততক্ষন আপনাকে মন শক্ত করে, খিদে চেপে, অপেক্ষা করতে হবে।  সময় কাটানোর জন্য এই সুযোগে আপনি নব দম্পতির দর্শন করে আস্তে পারেন।
- Speed :  পরিবেশন এবং খাবার  এর গতির  যদি তাল  না মেলে, তাহলে ঘর বিপদ। পরিবেশনের গতি আপনার হাতে নেই, তাই নিজের খাবার গতি নিয়ন্ত্রণ করাটা খুব জরুরি। খুব তাড়াতাড়ি খেলে আপনার plate বেশিরভাগ সময় খালি থেকে যাবে।  আর আস্তে খেলে কিছু item  মিস হয়ে যেতে পারে যখন পরিবেশনকারীরা আপনার এখনো ভরা plate এগিয়ে চলে যায়।
- শেষ সমস্যা হলো choice : আমি ছোলা খাই না, তাই ঘটা করে বানানো হিং দেওয়া ঘুগনি তে আমার কোনো interest নেই।  তার জায়গায় আমি ফিশ ফ্রী তা বেশি পছন্দ ।  কিন্তু তার আর উপায় কই ? Fish fry  অবধি পৌঁছাতে গেলে আমাকে ঘুগনি, ডাল, পনির,salad  ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আর ততক্ষনে পেট ও ভোরে যায়। তাই ধৈর্য ধরে অর্জুন এর মতন লক্ষ্যের থেকে চোখ সরাবেন না।
তবে buffet system এ এই সব সমস্যা আর নেই।  নিজের সময় আসুন, নিজের মতন খান।  যা ইচ্ছে। যত ইচ্ছে। তবে আমার recommendation : non-veg  এর দিকে ফোকাস রাখুন।  কচুরি, চপ ইত্যাদি এগুলো খালি চক্রান্ত - আপনার পেট ভরিয়ে দেবার চক্রান্ত। এতে প্রলুব্ধ হবেন না। সোজা কাবাব এর কাউন্টার থেকে শুরু করবেন আর পোলাও তে শেষ। মাঝখানে কিছু বাদ দেবেন না । আপনি যদি নিরামিষাশী হন, তাহলে এই গ্রন্থ আপনার জন্ন নয়। ক্ষমা করবেন।
৫. প্রস্থান: যত টা সহজ মনে হয়, ততটা নয়. যদি ভেবে থাকেন  যে খেয়ে উঠে চুপ চাপ গা ঢাকা দিয়ে কেটে পড়বেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। বিয়েবাড়ি তে খাবার জায়গা টা একটা Social melting pot. সেখানে লক্ষহী মাসি, বিনীতা পিসি, হাবুল কাকা and বড়ো জেঠু সকলের সাথেই দেখা হতে পারে। এবং তারা আপনার সমস্ত গতি বিধি লক্ষ্য করছে।  ইটা মনে রাখা উচিত। তাই খেয়ে উঠের তাদের সাথে ২ minute Hi  hello করাটা বাধ্যতামূলক। এখানেই শেষ নয়। বড় বধু, তাদের অভিভাবক, তাদের বন্ধু বান্ধব, ক্যামেরা ম্যান - এদের সবাই কে বিদায় জানিয়ে তারপর পেছন ফিরবেন - আর কোনো দিকে  না তাকিয়ে দ্রুত হেটে সোজা বোরো রাস্তায়। পাছে কেউ লিফ্ট চায়, বা একসাথে ট্যাক্সি তে যেতে চায়, তাই আসে পাশে বেশি ঘুরে ঘুরে করবেন না।  পকেট করে যে পান গুলো তুলে এনেছেন, তার একটা খেতে খেতে বাড়ির দিকে রওয়না দিন। Congratulation. আপনি সফল ভাবে অল্পতম সামাজিক কর্তব্য পালন করে চর্ব চোষ্য ভোজন  করে ফিরে  এসেছেন।  এ একমাত্র বিয়ে বাড়িতেই সম্ভব।