সংসার ধর্ম পালন করতে গিয়ে। যুক্তিবিদ্যা বা তর্কশাস্ত্রে পারদর্শীতার প্রয়োজন নেই। খালি প্রয়োজন আছে গুরুর প্রতি শিষ্যের অগাধ বিশ্বাস। বলাই বাহুল্য এই ক্ষেত্রে আমি শিষ্য আর গুরুদেবীর ভূমিকায় আমার অর্ধাঙ্গিনী। কৌতূহল নিবারণার্থে আজ আমি কিছু বাছাই করা মুখরোচক উদাহরণ পেশ করছি পাঠকের সামনে। বড় মন নিয়ে পড়ুন ও পড়ান।
১. চটি : ঘরের চটি, বাইরের চটি, বাগানের চটি, Carpet এর চটি, বাথরুম এর চটি. ভিন্ন ভিন্ন রং আর নকশা দিয়ে চটির সামাজিক স্থান নির্দিষ্ট করা হয়। ব্যাপারটা যতটা জটিল মনে হচ্ছে ততটা নয়। বাড়ি ঢোকার সময় বাইরের চটি টা চৌকাঠএর ওপারে রেখে ঘরের চটি পরে নিলাম। তারপর বেডরুম এ ঢোকার আগে কার্পেট এর চটি তে বদল। সেখান থেকে বাথরুম যাবার আগে আর একবার পদান্তর। চটি বদলের এই ছন্দে তাল মিলিয়ে চলা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। গুরুদেবী বলেন এতে জীবনে শৃঙ্খলা আসে। অকাট্ট যুক্তি।
২. এঁটো : গুরুদেবীর প্রাণপণ চেষ্টার পরেও আমি আজও এঁটো কাটার বিষয়ে একটু পিছিয়ে আছি। তবে in all fairness এই বিষয় টা সবচেয়ে জটিল। বিশ্বাস হচ্ছে না ? আচ্ছা বুঝিয়ে বলছি। প্রথমে আমাদের জানতে হবে এঁটো জিনিসের তালিকা। এই লম্বা list এ যে যে পদের নাম থাকবে, তাদের থেকে খুব সাবধান। এরা নিজেরা এঁটো, আর যে জিনিসের সংস্পর্শে আসে, তাকেও এঁটো করে দেয়। মাছের এঁটো, ডিমের এঁটো, chicken এর এঁটো, ভাতের এঁটো, ডালের এঁটো। না খিচুড়ির এঁটো হয় না - ওটা পবিত্র। বাজার থেকে ডিম্ এনে যদি টেবিল এর ওপর রাখি, তাহলে টেবিল তা এঁটো হয়ে যায়। এখন টেবিল এ যাই রাখি সব এঁটো। যতক্ষণ না ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে মুছে টেবিল কে শুদ্ধ করা হচ্ছে, ততক্ষন তাকে ব্যবহার করা চলবে না। কি সাংঘাতিক ! এই সেদিন যেমনি অজ্ঞাতবশে ল্যাপটপ তা টেবিল এ রেখেছি, আর ঠিক তার পরক্ষনেই গুরুমা ভেজা ন্যাকড়া নিয়ে ঘরে ঢুকলো। বুঝলাম, টেবিল এঁটো আর এখন ল্যাপটপ টাও এঁটো হয়ে গেছে। এবার উপায় ? আমি করুণ চোখে গুরুমায়ের দিকে তাকালাম। office এর ল্যাপটপ। কলের তলায় চান করালে বোধহয় boss পছন্দ করবে না। কিন্তু গুরুমায়ের অসীম প্রতিভা, সঙ্গে সঙ্গে clorex wipes বেরিয়ে এলো। সমস্যা সমাধান। যদিও এই পুরো ঘটনায় এঁটো হয়ে যাবার প্রভাব বোঝার সুযোগ পেলাম না, কিন্তু সেটা গুরুত্ব পূর্ণ না। গুরুমা বলেন বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। আমার বিশ্বাস এখন এই laptop সম্পূর্ণ পাপমুক্ত । এখন খালি সুন্দর, সুশীল আর পবিত্র powerpoint তৈরী হবে এতে।
৩. বাসি কাপড় : এইটা বোঝা যতটা সহজ কিন্তু অনুসরণ করা ততটাই কঠিন। যেমনি শৌচালয় ভ্রমণের আগে গায়ের সমস্ত কাপড় ছেড়ে তবেই প্রবেশের অনুমুতি। খুব সোজা মনে হচ্ছে না ? শীতকালীন ভোরে এই প্রথা অবলম্বন করা খুবই বেদনাদায়ক। ও বলতে ভুলে গেলাম, শৌচালয়ের কার্য সম্পন্ন হলে আপাদমস্তক স্নান করা অবশ্য কর্তব্য । গোসলে যাবার ভয় শীতকালে অনেকেরই খাওয়া কমে যায়। বলাই বাহুল্য রাস্তা ঘাটে শৌচালয় ব্যবহার ভাবনার অতীত। তবে হ্যা, একটা exception আছে। মাঠে ঘটে, প্রকৃতির মাঝে কার্য সিদ্ধি হলে এই নিয়ম খাটে না। কিন্তু এই দেশে সেটার উপায় নেই। তাই অর্থহীন। তবে শুনেছি নাকি কম্বলে দোষ নেই। না থাকাই ভালো। সকাল বিকেল কম্বল কাঁচা একদমই প্রীতিকর নয়.
আজ এই পর্যন্তই থাক। এ এক বিশাল গ্রন্থের একটা ছোট্ট অংশ। একমাত্র সিদ্ধ পুরুষ এবং নারী ই এই জ্ঞান সম্পূর্ণ রূপে অর্জন করতে পারেন। আমরা তাদেরই দেখানো পথ অবলম্বন করার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে ত্রূটি হয়। আপাদমস্তক স্নান করে, জামা কেচে প্রায়শ্চিত্ত কোরে নি।
---- ঋত্বিক সেন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন