রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯

মনের আকাশ

বৈঠকখানা র লম্বা জানলা টা দিয়ে অনেকটা আকাশ দেখা যায়।  দূরে এক চিলতে পাহাড় ও দেখা যায়।  টেবিল এর পাশ থেকে চেয়ার তা টেনে নিয়ে জানলার ধারে বসলাম।  বিকেলের সোনালী রোদে ঝলসে যাচ্ছে চারিদিক।  আকাশে মেঘ দেখতে দেখতে মনটা হঠাৎ ২০১৬ হিউস্টন এ।  মাস খানেক হলো এই দেশে এসেছি।  হিউস্টন এ আমাদের apartment এর বারান্দা থেকেও অনেক তা খোলা আকাশ দেখা যেত।  উজ্জ্বল নীল আকাশে তুলোর মতন মেঘ।  সেই মেঘ যেন সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে আমার জন্য বার্তা নিয়ে এসেছে। আমার নিজের জনের বার্তা - পরিবার, পরিজন , বন্ধু বান্ধব এর বার্তা। এক ঢেউ স্মৃতি ভেসে উঠলো। মনটা পিসিজিয়ে গেলো ২০০৮ সা লের Bangalore শহরে। সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরি তে ঢুকেছি।  মাইনে সামান্য কিন্তু খরচা অনেক। বছর দু এক এর মধ্যে বিয়ে করার ইচ্ছে - তাই খুব সামলে চলা দরকার। তিন তোলার ওপর একটা চিলেকোঠার ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম।  ঘরের বাইরে পা রাখলেই খোলা ছাঁদ। আর সেখান দাঁড়িয়ে  দুটো প্রকান্ড multistorey বিল্ডিং এর মাঝখান থেকে এক ফালি আকাশ দেখা যেত। সূর্যাস্তের সমত সেই রক্তবর্ণ আকাশে রঙের খেলা দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়ে যেত।  কলকাতার সোনালী বিকেল গুলোর কথা মনে পরে যেত । মা, বাবা, ভাই, বন্ধু বান্ধব - তারা সবাই আমার থেকে সহস্র মাইল দূরে কিন্তু, মনের নিকটে। এই ঠিক যেন কদিন আগেই তিন বন্ধু মিলে চায়ের ঠেক জমিয়ে রাখতাম।  সুখ-দুঃখ্যের কথা, রাজ্যের বাঁদরামো সব ঐখানেই। বাড়ি ফিরে বাবার বকা আর মায়ের হাথের রান্না খেয়ে ভাইয়ের সাথে আড্ডা।  আকাশের তখন অরে রক্তবর্ণ নয়।  গাঢ় বেগুনি রঙের চাদর যেন তাকে ঢেকে দিচ্ছে।

হঠাৎ ঘোর কাটলো ফোন আওয়াজে। স্মৃতি রোমন্থনের ঘোরে কখন যে বিকেল পেরিয়ে সন্ধে হয়ে গেছে খেয়াল ও করি নি। মায়ের  ফোন।  ঘড়ি দেখলাম - ৮ টা বাজে। আকাশে ঠিক সেই ছেলেবেলার মতন একই রকম গাঢ় বেগুনি রং।

স্থান পাল্টেছে, কাল পাল্টেছে কিন্তু  যদি কিছু না পাল্টিয়ে থাকে তা হলো আমার ছেলেবেলার সেই আকাশ। এই আকাশ ই যেন মনের প্রিয়জন দেড় কাছে এনে দেয়।  ভৌগোলিক দূরত্ব শুধু কিছু সংখ্যা মাত্র ।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন