"হ্যালো বাবা, Happy Father's Day".
"হ্যা, তোরা ভালো থাকিস, এই নে মায়ের সাথে কথা বল"
হয়ে গেলো fathers day wish. ৩০ সেকেন্ড এর কম সময়। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আজ plan কি ?" জবাব এলো "Plan আবার কি ? এই তো office বেরোবে সবাই" . "আজ কোনো celebration নেই, আজ তো fathers day ?" আমি প্রশ্ন করলাম। মা হেসে বললো "কোনদিন তোর বাবা এইসব celebrate করলো ? বেশি বললে আবার রেগে যায়। বলে সব নাকি আদিখ্যেতা। তাই আমি আর ঘাটাই না। " এটা আমারও অভিযোগ। যেকোনো celebration এ বাবার যেন allergy. এই যেমন ছোট বেলায় একবার আমিও অংকে ১০০ / ১০০ পেয়েছিলাম। একবারই পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা বড়ো কথা নয় । নাচতে নাচতে বাড়ি এসে সবাই কে নিজের জ্ঞান জাহির করে বেড়াচ্ছি, মা এসে গালে চুমু খেয়ে গেলো, দাদু মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করলো, আর বাবা ? বাবা গম্ভীর ভাবে বললো - "ভালো হয়েছে, পরের বার আরো ভালো করতে হবে" আরো ভালো ? আমি তো full marks পেয়েছি। এর চেয়ে বেশি ভালো কিভাবে করবো ? যুক্তি টা উড়িয়ে দিয়ে বাবা বললো "যদি everest জয় করবি ভাবিস, তাহলে চাঁদের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। তবে না everest এর ধারে কাছে পৌঁছাতে পারবি। অকাট্ট যুক্তি - পরের বার আমি ১০০ তে ২০০ পাওয়ার চেষ্টা করবো।
বাবার এই বেরসিকতা তা শুধু পড়াশোনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে তাও বুঝতাম। কিন্তু না। আমার বয়স তখন ১৬। ১৪ই February Valentines Day. মনে বেশ কচি প্রেম প্রেম ভাব। প্ল্যান করলাম সেজে গুঁজে লাল জামা পরে icecream খেতে বেরোয়। বাবার কাছে ১০ টাকা চাইলাম - Ice cream এর জন্য । File এর ভিতর থেকে মুখ না তুলেই বাবা জানিয়ে দিলো যে সামনে year ending, ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। তাই ice cream খাওয়া আর খাওয়ানো ১st April অবধি ঠেকিয়ে রাখতে হবে। অতয়েব আমার Valentine's day টা April fool হয়ে গেলো। সেই দুখঃ আমি আজও ভুলতে পারিনি।
কিন্তু এসব শুনে ভদ্রলোককে কিপ্টে ভাববেন না। নিজের ভাসায় বাবা অত্যন্ত হিসেবি . অথচ এই হিসেবি মানুষ বাজার গেলে এক একটা কেলেঙ্কারি ঘটে। সস্তায় ফুলকপি পেলে আনন্দ হয় এরম অনেক লোক আমাদের চেনা । কিন্তু সেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে দোকানির সব ফুলকপি কিনে আনে, পুরো ২১ কিলো, এরম মানুষের সন্ধান পাওয়া কঠিন । মায়ের প্রবল প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে বাবা হিসাব করে দেখিয়ে দিলো যে প্রতি কিলো ২ টাকা ছাড় পাওয়াতে তিনি ৪২ টাকা লাভ করেছেন। তাছাড়া দোকানি নিজে van রিকশা করে সব ফুলকপি বাড়ি দিয়ে গেছে। মানে free delivery. শতাব্দীর সেরা সওদা। Breakfast এ ফুলকপির পরোটা, lunch এ ফুলকপির ঝোল, বিকেলে চায়ের সাথে ফুলকপির চপ, dinner এ ফুলকপির সূপ, আর বাড়িতে অতিথি এলে ফুলকপির রোস্ট। আগামী ২ মাসের menu announce করে দিলো বাবা। এর মধ্যে রান্নার মাসি বাবাকে আরো উস্কে দিয়ে বললো - "বড়দা, একটা গরু বা ছাগল ভাড়া নিয়ে আসেন । অতগুলো ফুলকপির পাতা আর ডাটা ফেলতে হবে না ।" বাবা সম্মতি জানাবার আগেই মা বলে উঠলো "থাক - তার প্রয়োজন নেই, আমি পাতার সাগ বানিয়ে দেব" . বুঝলাম দুমাস ফুলকপির সাথে সাথে পাতার সাগ খেতে হবে। অন্তত বাড়িটা গোয়াল ঘর হওয়া থেকে রক্ষা পেলো।
ভাগ্যক্রমে বাবার আর একটা গুন্ আমাদের এই ফুলকপি বিভ্রাট থেকে রক্ষা করলো। বাবার মতন জনহিতৈষী মানুষের নজির মেলা ভার। ভূত ভোজন অরে ভূত ভ্রমণ না করলে বাবার রাতে ঘুম হয়ে না। তাই ফুলকপি রপ্তানির পরের দিন থেকেই দানছত্র শুরু হয়ে গেলো। পাড়ার ময়রা, গাড়ির driver, ফ্লাট এর দারোয়ান, office এর কেরানি, দুঃসম্পর্কের কুটুম এমনকি বাজারের পাওনাদার - কাউকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয় নি । আসলে, বিনামূল্যে ফুলকপির প্রাপক হবার জন্য বাবার সাথে হৃদ্যতার প্রয়োজন নেই। হাসি মুখে "স্যার ভালো আছেন ?" বললেই ফস করে এক জোড়া ফুলকপি হাথে চলে আসবে। যেন ভূতের রাজার বড় ।
এতো জন কল্যাণ করেও বাবার কোনো গর্ব নেই। ভদ্রলোক অত্যন্ত down to earth. Office হোক বা বিয়েবাড়ি - বাবার পরনে তার প্রিয় নীল শার্ট আর ছাই রঙের প্যান্ট সঙ্গে sreeleather এর জুতো। পছন্দের বাহন - দুই দশক পুরোনো জীর্ণ এক মোটরসাইকেল। ওহ আর ঝোলা ব্যাগ তার কথা ভুলে গেলে চলবে না। মা অনেক চেষ্টা করেও ভাড়া fashion sense এর কোনো উন্নতি করতে পারেনি। জামা মানেই তাকে হতে হতে হবে ডার্ক কালার আর পকেট ওয়ালা। কালো পছন্দ না। তাই বাবার আলমারি তে খালি নীল, সবুজ আর খয়েরি রঙের জামাই পাওয়া যায়। আর এই fashion disaster তা বাড়ির বাকিদের ওপরেও ছলকে পড়তো। কেন আমি প্রতি পুজোয় গামছা design এর জামা পরে ঠাকুর দেখতে বেরোতাম এখন সেটা বোঝা গেলো ? Courtesy হাতিবাগান। কিন্তু এসব তুচ্ছ প্রসাধনী ব্যাপারে বাবার কোনো উৎসাহ নেই। বাবা "Plain Living High thinking" নীতি তে দৃঢ় বিশ্বাসী। Plain living এর উদাহরণ তো আমরা পেয়েই গেছি। কিন্তু এই high thinking ব্যাপারটাতেই যত গোলমাল । একবার সবাই মিলে গরমের ছুটিতে মাসির বাড়ি বেড়াতে গিয়েছি। ঘরে ঢুকেই মাস্তুতো বোন কে বাবা প্রশ্ন করে ফেললো - ১৩ ঘরের নামতা তা বল দেখি। বাবার মতে মুখে মুখে অংক করা হলো মগজের exercise . High thinking এ first step. কিন্তু এই mental gymnastic আমার মাস্তুতো বোনের একটু পছন্দ নয়। সে কটমট করে আমার দিকে চেয়ে রইলো। যেন আমি পরিকল্পনা করে ওকে বিপাকে ফেলেছি। ভাগ্গিশ ঠিক সময় মা এসে সবাইকে বকাবকি করে চান করতে পাঠিয়ে দিলো। আর একটু দেরি হলেই বাবা algebra য় ঢুকে পড়তো। তারপর আর গরমের ছুটি salvage করা যেত না।
শুধু অংকে আটকে থাকলে তও হতো - রেজাল্ট এর season এ আমার বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ হয়ে যেত । কারণ - লোকের সাথে দেখা হলেই বাবা invariably জিগেশ করতো তাদের ছেলেমেয়েদের রেজাল্ট কেমন হলো। especially অংক আর সাইন্স এ। তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি তা হলো তাদের নম্বর জানার পর বাবা খুব গর্ব করে আমার নম্বর গুলো প্রচার করে ফেলতো। সমস্যা হলো আমার নম্বর গুলো তো আর গর্ব করে বলার মতন ছিল না। তাই সেগুলো যখন পাবলিক knowledge হয়ে যায় তখন আমার social distance করা ছাড়া আর উপায় থাকতো না। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো বাবা আমার class টাও গুলিয়ে ফেলতো। মানে, আমি ক্লাস ৯ এ পড়ি। বাবা গিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিলো আমি ক্লাস ১০ এ পড়ি। ভালো না ? এক ক্লাস বাড়িয়ে বলেছে। এক বছর পর যখন আমার সত্যি ক্লাস ১০ হবে তখন লোকে ভাববে আমি ফেল করেছি ? ইটা বাবাকে কিছুতেই বোঝাতে পারতাম না। যদি মনে না রাখতে পারো, কিছু বোলো না। ভুল ভাল information দিয়ে আমাকে বিপদে ফেলার কি মানে ? কিন্তু কে আর আমার কথা শোনে। একবার স্কুল এ বাবা গিয়েছিলো ক্লাস টিচার এর সাথে দেখা করতে। টিচার জিগেশ করলো আপনার ছেলের নাম কি ? বাবা কিছুক্ষন ভেবে বললো "গাব্বু" - ওটা আমার ডাক নাম। আর এখন বাবার কল্যানে South Point School এর faculty ডিপার্টমেন্ট এ একটা নতুন running joke শুরু হলো। কি করে যে আমি এতো গুলো বছর ওই স্কুল এ কাটালাম আমিই জানি খালি।
বাবার এইসব কাণ্ডে ছোটবেলায় খুব রাগ হতো। অনেকবার মায়ের কাছে অভিযোগ করেছি। মা বলতো - মন খারাপ করিস না, বাবা এরকমই। বোরো হলে বুঝবি। ঠিকই বলতো মা - এখন বুঝি বাবার এই principle গুলো তখন যতই বেমানান লাগতো, এখন ততটাই মানাতে পারি নিজের সাথে। বাবা শিখিয়েছে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য, পরোপকারিতা , ভেদাভেদ হীন মনুষত্ব আর সবচেয়ে বড়ো - মানসিক উদারতা। বাবার চিন্তা ধারার সাথে আমি আমি হয়তো সবসময় একমত নোই - কিন্তু বাবার দেওয়া তালিম গুলো আমি অগ্রাহ্য করতে পারি না। Happy Fathers Day বাবা। আমার প্রণাম নিও। Oh আমার বয়স এখন ৩৭ - কেউ জিগেশ করলে বাড়িয়ে বা কমিয়ে বলতে পারো - আমার একটুও খারাপ লাগবে না.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন