শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

নায়ক

মাসখানেক আগে পাড়ায়  এক নবাগত পরিবারের সাথে আলাপ হলো।  এরাও বাঙালি । ভাবলাম বেশ ভালো আড্ডা জমবে।  আড্ডার সূত্রে কথা উঠলো প্রিয় সিনেমার কথা।  জিগেশ করতে আমি বেশ উত্তেজিত হয়েই বললাম -   রজনীকান্ত এর Shivaji the Boss. বলেই বুঝলাম একটা কেলেঙ্কারি হয়ে গেছে। একটা অস্বতির স্তব্ধতা।  বৌ চোখ রাঙাচ্ছে আমার দিকে। বুঝলাম cultured বাঙালি আমার সিনেমার taste টা ঠিক হজম করতে পারছে না। টপিক চেঞ্জ হয়ে গেলো - প্রিয় খাবার। ফোঁস করে বলে ফেললাম "ঘুগনি" । বৌয়ের চোখে সমর্থনের ছাপ । আমাদের নতুন বন্ধুরাও স্বস্থির শাঁস ছাড়লো। কিন্তু সত্যি কথা বলতে ঘুগনি আমার মোটেও ভালো লাগে না। আমার favorite খাবার গুঁড়ো দুধ। Full  fat . কিন্তু সেটা পাবলিক এ share করলে social outcast হয়ে যেতে হয়। তাই একথা গোপন থাকাই ভালো। যাই হোক, এযাত্রা ফারা কাটলো। কিন্তু মনটা কিরাম যেন খচ খচ করতে থাকলো। মানে ওই সিনেমার পছন্দ অপছন্দ এর ব্যাপার টা।   

Action movie আমার বেশ পছন্দ । হিন্দি, বাংলা, হলিউড - সিনেমায় villain চাই আর তাকে জব্দ করার জন্য  hero . ব্যাস এটাই যথেষ্ট।  Romance, emotion, storyline, Item song - এইসব optional. Infact, action সিনেমা ভাষা - জাতির ভেদাভেদের ও উর্ধে - আমার প্রিয় ছবির তালিকায় দক্ষিণ  ভারতের কিছু নিদারুন দৃষ্টান্ত আছে - রজনীকান্ত এর Shivaji the Boss, নাগার্জুনা র Don No ১, মহেশ বাবুর Businessman. তামিল ও তেলেগু ভাষার এই ছবিগুলি আমি রোজ breakfast lunch আর dinner এর সাথে দেখতে পারি। Judge করছেন তো ? আমি uncultured, সাহিত্য রসিক বাঙালির নামে কলঙ্ক ? মৃণাল সত্যজিৎ বুদ্ধেদেব এর নাম ডোবাচ্ছি ? এই popular opinion এর বিরুদ্ধে গিয়ে আজ আমি একটা অনন্য দৃষ্টিকোণ পেশ করবো।   ধরে বসুন। 

ছবির নাম shivaji the boss. নায়ক দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্ত।  রাজনী আর তার সাগরেদ কে কয়েকশো গুন্ডা ঘিরে ফেলেছে।  পালাবার পথ নেই।  রাজনীর সাগরেদ ভয়ে কাতর।  রাজনী ঠোঁটের কোনায় হালকা হাসি লাগিয়ে আশ্বাস দিলো - "Munna, jhoond mein to sooar aata hain. Sher akela hi kaafi hain" চরম dialogue. হল ফেটে পড়েছে হাততালি তে। এক দিকে সিটি র আওয়াজ, অন্য দিকে কাসর ঘন্টা।  হ্যা, সিনেমা হল এ কাসর ঘন্টা।  শুনেছেন কখনো ? উত্তেজনা আর আবেগে আমার চোখে জল। তারপর যা হলো সে আর লিখে বোঝাতে পারবো না।  এইটুকুই বলে  রাখি রাজনী একই একশো।  পারলে ছবি টা  দেখবেন। কিন্তু এখানে fight সিন টা important না।  Important হলো রবী ঠাকুর। বুঝলেন না ? "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে" ? জীবনে আমাদের অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।  কখনো যদি এরম পরিথিতিতে নিজেকে একলা মনে হয়, তো কুচ পরোয়া নাহি। আপনি sher - akela hi kaafi hain . বুঝলেন ? হালকা ভাবে নেবেন না। 

আমরা সবাই ব্যক্তিগত নীতি বিচার নিয়ে এতটাই মশগুল যে অন্যের দৃষ্টিকোণের প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, ধর্মবিশ্বাস  সবেতেই আমাদের এতটাই দৃঢ় মতামত যে তাতে কোনো দ্বিমত আমরা সহ্য করতে পারি না। মতভেদ হলেই সেটা হিংস্রতায় পরিণত হয়। অথচ এই মনোমালিন্যের মাঝে আমরা বৃহৎ উদ্দেশ্য তাই ভুলে যাই। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।  "Aapka sapna mujhe pasand nahi, aur mera sapna apko pasand nahi. Isiliye jo duniya ke liye sapna dekhta hain woh sapna hi reh jaata hain" -  No ১ business man ছবির এই dialogue টা যেন গালে থাপ্পড় মেরে এই কঠিন সত্যটাই তুলে ধরে । তাই modi vs mamata তর্কে না গিয়ে চিন্তা করুন দেশের আর দোষের উন্নতি কিসে হবে। 

কিন্তু গোলা বারুদে ভরা action movie খালি হল কাঁপানো dialogue এর জোরে বেঁচে থাকে না। এইধরণের ছবি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে আসে।  অধ্যবএই সায়, বিশ্বাস, সহনশীলতা, বীরত্ব, ন্যায় বিচার।  এই গুণাবলী আজও  প্রাসঙ্গিক - হারিয়ে যায় নি। মন্দের উপর ভালোর জয়, এই বিশ্বাস দর্শকের মনের কোনায় কোথাও একটু আসার আলো জ্বালায়।  আর আজ এই  আশার আলোর খুব প্রয়োজন। যুদ্ধ, দুর্নীতি, অতিমারী, সন্ত্রাসবাদ, দূষণ, নিপীড়ন - এই কালো ছায়া ভেদ করবে কে ? বন্দুক ধারী আততায়ী যখন স্কুলের বাচ্ছাদের ওপর নিশানা নিয়েছে, তখন কে বাঁচাবে তাদের ? কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ পদার্থ কে পরিষ্কার করবে ? রাজনৈতিক নেতার দুর্নীতির বিনাশ কে করবে ? এক superhero ! ছোটবেলায় মা বলতো - এগুলো সিনেমায় দেখায়, সত্যি সত্যি Superhero হয় না। ঠিক ই তো , দরজা ভেঙে স্কুল এ ঢুকে Salman Khan কচি শিশু গুলোর প্রাণ বাঁচাতে পারবে না. জলের মধ্যে থেকে ক্যাপ্টেন Planet উঠে এসে বিষাক্ত chemical এর কারখানা ধ্বংস করবে না, অসৎ নেতার গালে থাপ্পড় মেরে Ajay Devgan বলবে না  "Aali re aali ... aata tujhi baari aali" । মন খারাপ হয় আর তখনি Spider Man ছবির একটা dialogue মনে পরে যায় - "I believe there's a hero in all of us that keeps us honest. Gives us strength, makes us noble". তাই তো, ২০১৭ সালে Houston  এ যখন প্রবল বন্যা হলো তখন তো captain  planet র দেখা পাওয়া যায় নি। সারা দেশের থেকে সাধারই মানুষ একত্রিত হয়েছিল ভিটেহীন houston বাসীদের পাশে।  Blood Testing  company Theranos যখন মিথ্যাচার এর মাধ্যমে কোটি কোটি dollar এর জালিয়াতি করছে তখন এক সাধারণ সাংবাদিক তার পর্দা ফাঁস করেছিল। ব্যাটম্যান এর প্রয়োজন হয় নি ।  Missouri  তে রেল দুর্ঘটনায় কয়েকশো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলো একদল কিশোর, রাজনীকান্তঃ নয় ।  ভারতবর্ষের বিশাল ওহ আর আমার personal favourite -  Dorothy Vaughan, Mary Jackson, and Katherine Gobels Johnson - ১৯৬০ এর দশকে এই তিন african american মহিলা হাজারো সামাজিক বৈষম্য আর প্রতিকূলতার মুখেও আমেরিকা কে মহাকাশ এ পৌঁছে দিলো। Hidden Figures ছবিটা দেখবেন। ভালো লাগবে। এরম আরো কত উদাহরণ আছে যে লিখতে বসলে উপন্যাস হয়ে যাবে।  এরাই তো সত্যিকারের নায়ক। আর এদের কাহিনী থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরী হয় আমার প্রিয় action film গুলো।  ঐজন্যই এগুলি আমার এতো প্রিয়।  









কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন